সঠিক উত্তর: (গ) রঞ্জন রশ্মি
**ভূমিকা:**
বাংলাদেশের সরকারি চাকরির পরীক্ষাগুলোতে সাধারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক প্রশ্ন প্রায়শই আসে। বিশেষ করে ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি থেকে নির্গত বিভিন্ন ধরনের রশ্মি সম্পর্কিত প্রশ্নগুলো প্রায়ই পরীক্ষায় দেখা যায়। এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য বিভিন্ন রশ্মির বৈশিষ্ট্য ও উৎস সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন।
**রঞ্জন রশ্মি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— রঞ্জন রশ্মি (X-ray) হলো এক ধরনের তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ যার তরঙ্গদৈর্ঘ্য প্রায় ০.০১ থেকে ১০ ন্যানোমিটার।
— এটি মানবদেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গের ছবি তুলতে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ব্যবহৃত হয়।
— রঞ্জন রশ্মি উৎপন্ন হয় যখন উচ্চ-গতিসম্পন্ন ইলেকট্রন কোনো ভারী ধাতুর (যেমন টাংস্টেন) পরমাণুর সাথে সংঘর্ষ করে।
— রঙিন টেলিভিশনের ক্যাথোড রে টিউব (CRT) থেকে নির্গত ইলেকট্রনের সংঘর্ষের ফলে রঞ্জন রশ্মি উৎপন্ন হয়।
— রঞ্জন রশ্মি মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে কারণ এটি কোষের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) গামা রশ্মি: গামা রশ্মি হলো উচ্চ শক্তিসম্পন্ন তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ যা তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে নির্গত হয়। এটি সাধারণত রঙিন টেলিভিশন থেকে নির্গত হয় না।
✗ খ) বিটা রশ্মি: বিটা রশ্মি হলো উচ্চ শক্তিসম্পন্ন ইলেকট্রন বা পজিট্রন যা তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে নির্গত হয়। এটি টেলিভিশন থেকে নির্গত হয় না।
✗ ঘ) কসমিক রশ্মি: কসমিক রশ্মি হলো মহাজাগতিক উৎস থেকে আগত উচ্চ শক্তিসম্পন্ন কণা বা তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ। এটি টেলিভিশন থেকে নির্গত হয় না।
**উৎস:**
— "সাধারণ বিজ্ঞান" (৯ম-১০ম শ্রেণি), জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, বাংলাদেশ।
— "ইলেকট্রনিক্সের মৌলিক নীতি" (প্রথম খণ্ড), পল এস. হোরোভিটজ ও উইনফিল্ড হিল।
— বিসিএস প্রিলিমিনারি প্রশ্নব্যাংক (২০১০-২০২৩), বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন।