ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) রঞ্জন রশ্মি
<সাধারণ জ্ঞান বিষয়ক ভূমিকা>
বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি থেকে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর রশ্মি নির্গত হতে পারে। বিশেষ করে টেলিভিশন, কম্পিউটার মনিটর, মোবাইল ফোন ইত্যাদি থেকে নির্গত ক্ষতিকর রশ্মি সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ছে। এসব যন্ত্র থেকে নির্গত ক্ষতিকর রশ্মির মধ্যে রঞ্জন রশ্মি অন্যতম।
**রঞ্জন রশ্মি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— রঞ্জন রশ্মি (X-ray) হলো এক ধরনের তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ যার তরঙ্গদৈর্ঘ্য ০.০১ থেকে ১০ ন্যানোমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে।
— এটি মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর কারণ এটি উচ্চ শক্তিসম্পন্ন এবং মানব কলা ও কোষের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
— রঞ্জন রশ্মি সাধারণত উচ্চ ভোল্টেজের ইলেকট্রনিক যন্ত্র থেকে নির্গত হয়, যেমন পুরোনো ধরনের টেলিভিশন, মনিটর ইত্যাদি।
— রঞ্জন রশ্মির মাধ্যমে মানবদেহে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
— এটি দৃশ্যমান আলোর চেয়ে শক্তিশালী হওয়ায় মানব চোখ দ্বারা দেখা যায় না।
**গামা রশ্মি সম্পর্কে সংক্ষেপে:**
— গামা রশ্মি হলো সবচেয়ে শক্তিশালী তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ যার উৎস সাধারণত পারমাণবিক বিক্রিয়া বা নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া।
— এটি সাধারণত টেলিভিশন বা ইলেকট্রনিক যন্ত্র থেকে নির্গত হয় না।
**বিটা রশ্মি সম্পর্কে সংক্ষেপে:**
— বিটা রশ্মি হলো উচ্চ শক্তিসম্পন্ন ইলেকট্রন বা পজিট্রন কণা।
— এটি সাধারণত তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে নির্গত হয়, ইলেকট্রনিক যন্ত্র থেকে নয়।
**কসমিক রশ্মি সম্পর্কে সংক্ষেপে:**
— কসমিক রশ্মি হলো মহাজাগতিক উৎস থেকে আসা উচ্চ শক্তিসম্পন্ন কণা।
— এটি সাধারণত মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে প্রবেশ করে এবং ইলেকট্রনিক যন্ত্র থেকে নির্গত হয় না।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ ক) গামা রশ্মি: এটি পারমাণবিক বিক্রিয়া থেকে নির্গত হয়, টেলিভিশন থেকে নয়।
✗ খ) বিটা রশ্মি: এটি তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে নির্গত হয়, ইলেকট্রনিক যন্ত্র থেকে নয়।
✗ গ) কসমিক রশ্মি: এটি মহাকাশ থেকে আসে, ইলেকট্রনিক যন্ত্র থেকে নয়।
উৎস:
— পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ক বই: "Introduction to Electromagnetic Theory" by David J. Griffiths
— সাধারণ জ্ঞান বিষয়ক বই: "সাধারণ জ্ঞান সংগ্রহ" (বাংলা একাডেমি প্রকাশিত)
— স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এর প্রকাশিত তথ্য