স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদান রাখার জন্য কতজন মহিলাকে বীরপ্রতীক উপাধিতে ভূষিত করা হয়?
ক৫ জন
খ৭ জন
গ২ জন✓
ঘ৬ জন
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) ২ জন
স্বাধীনতা যুদ্ধে মহিলাদের অবদান সম্পর্কিত প্রেক্ষাপট:
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অসংখ্য নারী তাদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে তাদের অবদানকে স্বীকৃতি দিতে সরকার বিভিন্ন উপাধিতে ভূষিত করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বীরপ্রতীক উপাধি, যা সর্বোচ্চ সামরিক পদক হিসেবে বিবেচিত। তবে এই পদক প্রদানের ক্ষেত্রে মহিলাদের অবদান তুলনামূলকভাবে কম স্বীকৃত হয়েছে।
বীরপ্রতীক উপাধিপ্রাপ্ত মহিলাদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সর্বমোট ৬৭ জনকে বীরপ্রতীক উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
— এর মধ্যে মাত্র **২ জন মহিলা** রয়েছেন, যারা এই সম্মানজনক উপাধিতে ভূষিত হন।
— মহিলা বীরপ্রতীকদের নাম হলো:
১. **ক্যাপ্টেন সেতারা বেগম** (বীরপ্রতীক)
২. **তারামন বিবি** (বীরপ্রতীক)
— ক্যাপ্টেন সেতারা বেগম ছিলেন একজন সেনা কর্মকর্তা, যিনি যুদ্ধকালীন সময়ে অসীম সাহসিকতার পরিচয় দেন।
— তারামন বিবি ছিলেন একজন আদিবাসী নারী, যিনি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে গুপ্তচর হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ ক) ৫ জন: বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে মহিলাদের অবদানকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি বলে অনেকেই ভুল ধারণা পোষণ করেন। প্রকৃতপক্ষে মাত্র ২ জন মহিলাকে বীরপ্রতীক দেওয়া হয়েছে।
✗ খ) ৭ জন: এটি একটি অতিরঞ্জিত সংখ্যা। কোনো সরকারি নথিতে ৭ জন মহিলাকে বীরপ্রতীক দেওয়ার উল্লেখ নেই।
✗ ঘ) ৬ জন: এটি একটি ভুল তথ্য। সরকারি তথ্য অনুযায়ী মহিলা বীরপ্রতীকের সংখ্যা ২ জন।
উৎস:
— বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত "মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বসূচক পদকপ্রাপ্তদের তালিকা"।
— বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর কর্তৃক প্রকাশিত "মুক্তিযুদ্ধে নারী" শীর্ষক প্রকাশনা।
— "বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র" (১৫ খণ্ড) — সম্পাদনা: বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়।