ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) ৪২৬ জন
স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত সর্বোচ্চ সামরিক পদক ‘বীরপ্রতীক’ সম্পর্কিত প্রাসঙ্গিক ভূমিকা:
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অসাধারণ সাহসিকতা ও অবদানের জন্য সরকার বিভিন্ন ধরনের বীরত্ব পদক প্রদান করে। এসব পদকের মধ্যে ‘বীরপ্রতীক’ হলো চতুর্থ সর্বোচ্চ পদক। স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী যোদ্ধাদের মধ্যে যারা বিশেষ সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন তাদেরকে এই পদক প্রদান করা হয়।
‘বীরপ্রতীক’ পদক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে মোট ৬৭৬ জনকে বিভিন্ন বীরত্ব পদক প্রদান করা হয়।
— এর মধ্যে সর্বোচ্চ পদক ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ পান ৭ জন।
— দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদক ‘বীর উত্তম’ পান ৬৮ জন।
— তৃতীয় সর্বোচ্চ পদক ‘বীর বিক্রম’ পান ১৭৫ জন।
— চতুর্থ সর্বোচ্চ পদক ‘বীর প্রতীক’ পান ৪২৬ জন।
— ‘বীর প্রতীক’ পদকপ্রাপ্তদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর, হামিদুর রহমান, মুন্সি আব্দুর রউফ প্রমুখ।
— এই পদক প্রদানের ক্ষেত্রে যুদ্ধক্ষেত্রে বিশেষ সাহসিকতা, নেতৃত্ব ও ত্যাগের মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়।
— বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৩ সালে প্রথম এই পদক প্রদান শুরু করে।
— স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল শ্রেণীর মানুষকে এই পদকে ভূষিত করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ, ইপিআর, আনসার ও সাধারণ জনগণ।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ ক) ৭ জন: এটি ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ পদকপ্রাপ্তদের সংখ্যা, ‘বীরপ্রতীক’ নয়।
✗ খ) ৬৮ জন: এটি ‘বীর উত্তম’ পদকপ্রাপ্তদের সংখ্যা, ‘বীরপ্রতীক’ নয়।
✗ গ) ১৭৫ জন: এটি ‘বীর বিক্রম’ পদকপ্রাপ্তদের সংখ্যা, ‘বীরপ্রতীক’ নয়।
উৎস:
— বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত ‘মুক্তিযুদ্ধে বীরত্ব পদকপ্রাপ্তদের তালিকা’।
— বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইতিহাস বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত ‘স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্ব পদক’ সংক্রান্ত প্রকাশনা।
— ‘মুক্তিযুদ্ধ কোষ’ (সম্পাদক: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি)।