ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) ১১ টি
স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বাংলাদেশের সামরিক কৌশলগত বিভাজন সম্পর্কিত প্রশ্ন।
মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের সেক্টর ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে সামরিক কৌশলের সুবিধার্থে বিভিন্ন সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল।
— এই বিভাজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন অঞ্চলে মুক্তিবাহিনীর কার্যক্রমকে সুসংগঠিত ও কার্যকর করা।
— মোট **১১টি সেক্টরে** বাংলাদেশকে বিভক্ত করা হয়েছিল।
— প্রতিটি সেক্টরের নেতৃত্বে ছিলেন একজন করে সেক্টর কমান্ডার, যারা সরাসরি বাংলাদেশ সরকারের অধীনস্থ ছিলেন।
— সেক্টরগুলোকে আবার উপ-সেক্টরে বিভক্ত করা হয়েছিল কিছু ক্ষেত্রে, বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায়।
— সেক্টরগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ১ নং সেক্টর (চট্টগ্রাম), ২ নং সেক্টর (ঢাকা ও ফরিদপুর), ৩ নং সেক্টর (কুমিল্লা ও নোয়াখালী), ইত্যাদি।
— সেক্টর ব্যবস্থা চালু হয়েছিল **জুন ১৯৭১** মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে।
— সেক্টর কমান্ডারদের মধ্যে ছিলেন এম এ জি ওসমানী (সর্বাধিনায়ক), আবু ওসমান চৌধুরী, খালেদ মোশাররফ, সি আর দত্ত প্রমুখ।
— সেক্টর ব্যবস্থা পরবর্তীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গঠনেও প্রভাব ফেলেছিল।
— সেক্টরগুলোর কার্যক্রম ছিল মূলত ভারতের ত্রিপুরা, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত এলাকা থেকে পরিচালিত।
— সেক্টর ব্যবস্থা মুক্তিযুদ্ধের সময় গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ ক) ১৯ টি: এটি সঠিক নয় কারণ সেক্টরের সংখ্যা ছিল ১১টি, ১৯টি নয়। এই সংখ্যাটি বিভ্রান্তির সৃষ্টি করতে পারে কারণ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অঞ্চলের জন্য উপ-সেক্টর গঠন করা হয়েছিল।
✗ খ) ৯ টি: এটি সঠিক নয়। প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু পরিকল্পনায় ৯টি সেক্টরের কথা উল্লেখ থাকলেও চূড়ান্তভাবে ১১টি সেক্টর গঠিত হয়েছিল।
✗ গ) ৮ টি: এটি সঠিক নয়। এই সংখ্যাটি অত্যন্ত কম এবং সেক্টর ব্যবস্থার প্রকৃত সংখ্যার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
উৎস:
— বাংলাদেশ সরকারের প্রকাশিত "মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র" (প্রথম খণ্ড, দ্বিতীয় খণ্ড)
— বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইতিহাস বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত "মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী"
— এম এ হান্নান সম্পাদিত "মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস" (২০১৫ সংস্করণ)
— বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর কর্তৃক প্রকাশিত "মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থাবলী"