ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) ১১ টি স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সেক্টর ব্যবস্থা
স্বাধীনতা যুদ্ধকালে বাংলাদেশকে সামরিক কৌশলের সুবিধার্থে বিভিন্ন সেক্টরে বিভক্ত করা হয়েছিল। এই বিভাজন ছিল মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যবস্থা। সেক্টর ব্যবস্থার মাধ্যমে মুক্তিবাহিনী বিভিন্ন অঞ্চলে সুসংগঠিত হয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিল।
**সেক্টর ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময়ে বাংলাদেশকে মোট **১১টি সেক্টরে** বিভক্ত করা হয়েছিল। এই বিভাজন করা হয়েছিল ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে ভারত সরকারের সহযোগিতায়।
— প্রতিটি সেক্টরের নেতৃত্বে ছিলেন একজন করে সেক্টর কমান্ডার, যারা ছিলেন মুক্তিবাহিনীর অভিজ্ঞ সামরিক কর্মকর্তা।
— সেক্টরগুলোকে আবার কয়েকটি উপ-সেক্টরে বিভক্ত করা হয়েছিল, যাতে স্থানীয়ভাবে যুদ্ধ পরিচালনা সহজ হয়।
— সেক্টর ব্যবস্থার মাধ্যমে মুক্তিবাহিনী বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাধীনভাবে যুদ্ধ পরিচালনা করতে পারত এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা লাভ করতে পারত।
— সেক্টরগুলো ছিল নিম্নরূপ:
১) সেক্টর ১: চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম (কমান্ডার: মেজর জিয়াউর রহমান, পরে মেজর রফিকুল ইসলাম)
২) সেক্টর ২: নোয়াখালী, কুমিল্লা ও ঢাকা জেলার অংশবিশেষ (কমান্ডার: মেজর খালেদ মোশাররফ)
৩) সেক্টর ৩: আখাউড়া, ভৈরব ও ঢাকা জেলার অংশবিশেষ (কমান্ডার: মেজর কেএম শফিউল্লাহ)
৪) সেক্টর ৪: সিলেট জেলা (কমান্ডার: মেজর সিআর দত্ত)
৫) সেক্টর ৫: দিনাজপুর ও রংপুর জেলা (কমান্ডার: মেজর মীর শওকত আলী)
৬) সেক্টর ৬: বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলা (কমান্ডার: উইং কমান্ডার এম কে বাশার)
৭) সেক্টর ৭: রাজশাহী ও দিনাজপুর জেলার অংশবিশেষ (কমান্ডার: মেজর নাজমুল হক)
৮) সেক্টর ৮: কুষ্টিয়া, যশোর ও খুলনা জেলা (কমান্ডার: মেজর আবু ওসমান চৌধুরী)
৯) সেক্টর ৯: বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলার অংশবিশেষ (কমান্ডার: মেজর এম এ জলিল)
১০) সেক্টর ১০: নৌবাহিনীর সদস্যরা গঠিত বিশেষ সেক্টর (কমান্ডার: রিয়ার অ্যাডমিরাল এম এইচ খান)
১১) সেক্টর ১১: ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলা (কমান্ডার: মেজর আবু তাহের)
— সেক্টর ১০ ছিল বিশেষ ধরনের, যা নৌবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে গঠিত হয়েছিল। এই সেক্টরের মূল কাজ ছিল নৌযুদ্ধ পরিচালনা ও শত্রুদের জলপথে চলাচল বন্ধ করা।
— সেক্টর ব্যবস্থা পরবর্তীতে মুক্তিবাহিনীর যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত