ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদের রূপে
সাধু ভাষা ও চলিত ভাষার মূল পার্থক্য নির্ভর করে ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদের রূপগত বৈচিত্র্যের উপর। বাংলা ভাষার দুটি প্রধান রূপভেদ হলো সাধু ভাষা ও চলিত ভাষা। এদের মধ্যে প্রধান পার্থক্য হলো ব্যাকরণগত গঠন ও শব্দ ব্যবহারের ধরনে।
**সাধু ভাষা ও চলিত ভাষা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **সাধু ভাষা:**
— এটি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম রূপ, যা মূলত সংস্কৃত ভাষার প্রভাব বহন করে।
— এটি অধিকতর সংস্কৃত শব্দ সমৃদ্ধ এবং তৎসম শব্দের ব্যবহার বেশি।
— ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদে সংস্কৃত প্রভাব বেশি দেখা যায়।
— উদাহরণ: "তিনি গিয়াছেন" (সাধু), "তিনি গেছেন" (চলিত)।
— সর্বনাম পদে সাধু ভাষায় "তাহা", "তাহারা", "তাহাকে" প্রভৃতি ব্যবহৃত হয়।
— ক্রিয়াপদে সাধু ভাষায় "গিয়াছিল", "করিয়াছিল" প্রভৃতি ব্যবহৃত হয়।
— **চলিত ভাষা:**
— এটি বাংলা ভাষার আধুনিক ও সহজবোধ্য রূপ।
— এটি তদ্ভব ও দেশি শব্দের ব্যবহার বেশি।
— ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদে পরিবর্তন দেখা যায়।
— উদাহরণ: "সে বাড়ি গেছে" (চলিত), "সে বাড়ি গিয়াছে" (সাধু)।
— সর্বনাম পদে চলিত ভাষায় "এটা", "ওরা", "তাকে" প্রভৃতি ব্যবহৃত হয়।
— ক্রিয়াপদে চলিত ভাষায় "গিয়েছিল", "করেছিল" প্রভৃতি ব্যবহৃত হয়।
— **সাধু ভাষা ও চলিত ভাষার অন্যান্য পার্থক্য:**
— সাধু ভাষা অধিকতর সংস্কৃতানুগ এবং চলিত ভাষা অধিকতর বাংলাভাষানুগ।
— সাধু ভাষা অধিকতর আনুষ্ঠানিক এবং চলিত ভাষা অধিকতর অনানুষ্ঠানিক।
— সাধু ভাষা অধিকতর জটিল এবং চলিত ভাষা অধিকতর সরল।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) তৎসম ও অতৎসম শব্দের ব্যবহারে: সাধু ও চলিত ভাষার পার্থক্য শব্দের উৎসের উপর নির্ভর করে না, বরং ব্যাকরণগত গঠনের উপর নির্ভর করে।
✗ গ) শব্দের কথা ও লেখা রূপে: সাধু ও চলিত ভাষা কথা ও লেখার রূপ নয়, বরং ব্যাকরণগত গঠনের পার্থক্য।
✗ ঘ) বাক্যের সরলতা ও জটিলতায়: সাধু ভাষা জটিল এবং চলিত ভাষা সরল হলেও এটি প্রধান পার্থক্য নয়, বরং ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদের রূপই প্রধান পার্থক্য।
**উৎস:**
— বাংলা একাডেমী প্রকাশিত "বাংলা ব্যাকরণ" (ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ)
— "বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত" (ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ)
— "বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা" (ড. সৌমিত্র শেখর)