ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) নাটকের সংলাপে
সাধু ভাষা সাধারণত সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় ব্যবহৃত হলেও নাটকের সংলাপে এর ব্যবহার অনুপযোগী। কারণ নাটকের সংলাপে চলিত ভাষার প্রয়োজন হয়, যা শ্রোতাদের কাছে স্বাভাবিক ও বোধগম্য হয়।
**সাধু ভাষা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— সাধু ভাষা বাংলা সাহিত্যের একটি প্রাচীন ও সংস্কৃতানুগ ভাষারীতি। এটি মূলত সংস্কৃত ভাষার প্রভাব বহন করে এবং এর ব্যাকরণগত নিয়মাবলি সংস্কৃত ব্যাকরণের অনুসারী।
— সাধু ভাষায় সর্বনাম পদগুলো সংস্কৃতের মতো ব্যবহৃত হয়, যেমন: "তাহা", "তাহারা", "তাহাকে" ইত্যাদি।
— ক্রিয়াপদগুলোও সংস্কৃতানুগ হয়, যেমন: "করি", "করিল", "করিবে" ইত্যাদি।
— সাধু ভাষা সাধারণত গদ্য সাহিত্যে ব্যবহৃত হয়, যেমন: উপন্যাস, প্রবন্ধ, গল্প ইত্যাদি।
— সাধু ভাষা অত্যন্ত নিয়মনিষ্ঠ এবং এর গঠন বেশ জটিল। এটি মূলত লেখ্য ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়, কথ্য ভাষা হিসেবে নয়।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) কবিতার পংক্তিতে: সাধু ভাষা কবিতায় ব্যবহৃত হতে পারে, বিশেষ করে ঐতিহ্যবাহী কবিতায়। তবে আধুনিক কবিতায় চলিত ভাষার ব্যবহার বেশি।
✗ খ) গানের কলিতে: গানের কলিতে সাধারণত চলিত ভাষা ব্যবহৃত হয়, কারণ গান শ্রোতাদের কাছে সহজবোধ্য হতে হয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে সাধু ভাষাও ব্যবহৃত হতে পারে, যেমন: ভক্তিমূলক গান বা শাস্ত্রীয় সঙ্গীত।
✗ গ) গল্পের কলিতে: গল্পের কলিতে সাধু ভাষা ব্যবহৃত হতে পারে, কারণ গল্প সাধারণত গদ্য সাহিত্যের অংশ। তবে আধুনিক গল্পে চলিত ভাষার ব্যবহার বেশি।
উৎস:
— বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও রীতি, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
— বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মুহম্মদ আবদুল হাই
— বিভিন্ন সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নব্যাংক