ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) সাবমেরিন ক্যানিয়ন
‘সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড’ সম্পর্কে ভূমিকা:
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে অবস্থিত ‘সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড’ হলো বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এবং গভীরতম সাবমেরিন ক্যানিয়ন। এটি বঙ্গোপসাগরের তলদেশে অবস্থিত একটি প্রাকৃতিক ভূতাত্ত্বিক গঠন, যা সমুদ্র বিজ্ঞানীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
‘সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড’ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— এটি বিশ্বের দীর্ঘতম সাবমেরিন ক্যানিয়নগুলোর মধ্যে একটি, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৩২০ কিলোমিটার এবং সর্বোচ্চ গভীরতা প্রায় ১,২০০ মিটার।
— এটি বাংলাদেশের উপকূল থেকে শুরু হয়ে বঙ্গোপসাগরের মধ্য দিয়ে ভারত মহাসাগরে প্রবাহিত হয়েছে।
— ‘সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড’ নামটি এসেছে ইংরেজি ‘Swatch’ (অর্থাৎ গভীর খাদ) এবং ‘No Ground’ (অর্থাৎ যেখানে কোনো মাটির স্তর নেই) থেকে।
— এই ক্যানিয়নটি সমুদ্রতলের ভূতাত্ত্বিক গঠন এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য অধ্যয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
— এটি মাছ ধরার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানে প্রচুর সামুদ্রিক প্রজাতি পাওয়া যায়।
— বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এটি প্রাচীন নদী ব্যবস্থার অবশিষ্টাংশ হতে পারে, যা ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রের তলদেশে পরিণত হয়েছে।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ ক) একটি দেশের নাম: ‘সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড’ কোনো দেশ নয়, এটি একটি ভূতাত্ত্বিক গঠন।
✗ খ) ম্যানগ্রোভ বন: এটি কোনো বন নয়, এটি সমুদ্রের তলদেশের একটি গভীর খাদ।
✗ গ) একটি দ্বীপ: এটি কোনো দ্বীপ নয়, এটি সমুদ্রের তলদেশে অবস্থিত একটি ক্যানিয়ন।
উৎস:
— Bangladesh Geological Survey (BGS) – ভূতাত্ত্বিক মানচিত্র ও প্রতিবেদন।
— National Oceanic and Atmospheric Administration (NOAA) – সামুদ্রিক গবেষণা।
— ‘Geology of Bangladesh’ – ড. এম. এ. হক রচিত গ্রন্থ।