ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) ইতালি
সামন্তবাদ ইউরোপের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা ছিল, যা মধ্যযুগে (৫ম থেকে ১৫শ শতাব্দী পর্যন্ত) প্রচলিত ছিল। সামন্তবাদ এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে ভূমির মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণের ভিত্তিতে সামাজিক স্তরবিন্যাস গড়ে ওঠে।
**সামন্তবাদ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— সামন্তবাদ মূলত ইউরোপের মধ্যযুগীয় সমাজব্যবস্থা ছিল, যেখানে ভূমির মালিকরা (সামন্তপ্রভু) কৃষকদের (ভূমিদাস বা সার্ফ) কাছ থেকে শ্রম ও উৎপাদনের একটি অংশ গ্রহণ করতেন।
— সামন্তবাদের উৎপত্তি সম্পর্কে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে, তবে অধিকাংশ ঐতিহাসিক মনে করেন যে এটি **পশ্চিম ইউরোপের ইতালিতে প্রথম সূত্রপাত হয়**। কারণ ইতালির উত্তরাঞ্চলীয় অঞ্চলগুলোতে রোমান সাম্রাজ্যের পতনের পর ভূমির মালিকানা কেন্দ্রীভূত হতে শুরু করে।
— সামন্তবাদের বিকাশে রোমান সাম্রাজ্যের পতন ও জার্মানিক জাতিগোষ্ঠীর অভিবাসন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রোমান সাম্রাজ্যের পতনের পর ইউরোপে কেন্দ্রীয় শাসনের অভাব দেখা দেয়, ফলে স্থানীয় ভূমিমালিকরা শক্তিশালী হয়ে ওঠেন।
— সামন্তবাদের প্রাথমিক রূপ ইতালিতে দেখা যায়, যেখানে ভূমির মালিকরা (যেমন: রাজা, চার্চ, অভিজাতরা) কৃষকদের কাছ থেকে শ্রম ও উৎপাদনের অংশ আদায় করতেন। পরবর্তীতে ফ্রান্স, ইংল্যান্ডসহ অন্যান্য ইউরোপীয় দেশে সামন্তবাদের বিস্তার ঘটে।
— সামন্তবাদের মূল বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ভূমির মালিকানা, ভূমিদাস প্রথা, সামরিক সেবা প্রদান, এবং স্থানীয় শাসনের বিকেন্দ্রীকরণ।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ খ) ইংল্যান্ড: ইংল্যান্ডে সামন্তবাদের বিকাশ ঘটে ঠিকই, তবে এটি ইতালিতে প্রথম সূত্রপাত হয়েছিল। ইংল্যান্ডে সামন্তবাদের বিস্তার ঘটে মূলত নরম্যান বিজয়ের (১০৬৬ খ্রিস্টাব্দ) পর।
✗ গ) ফ্রান্স: ফ্রান্সেও সামন্তবাদের প্রচলন ছিল, তবে এটি ইতালি থেকে পরবর্তীতে ফ্রান্সে ছড়িয়ে পড়ে। ফ্রান্সে সামন্তবাদের বিকাশ ঘটে মূলত ক্যারোলিংগিয়ান সাম্রাজ্যের পতনের পর।
✗ ঘ) রাশিয়া: রাশিয়ায় সামন্তবাদের প্রচলন ঘটে অনেক পরে, মূলত মস্কোভির যুগে (১৪শ থেকে ১৬শ শতাব্দী)। রাশিয়ায় সামন্তবাদের বিকাশ ঘটে মূলত ভূমিদাস প্রথার মাধ্যমে, যা ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক পরে ঘটে।
উৎস:
— *Medieval Europe: A Short History* – C. Warren Hollister
— *Feudalism* – Joseph R. Strayer (Princeton University Press)
— *A History of Medieval Europe* – John M. Roberts