ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) ফররুখ আহমদ
‘সাত সাগরের মাঝি’ বিংশ শতাব্দীর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান মুসলিম কবি ফররুখ আহমদের একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৪ সালে। এই কাব্যগ্রন্থটি বাংলা সাহিত্যে ইসলামি ভাবধারার অন্যতম শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
**ফররুখ আহমদ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— তিনি ১৯১৮ সালের ১০ জুন তৎকালীন অবিভক্ত ভারতের বর্ধমান জেলার (বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের) মঙ্গলকোটে জন্মগ্রহণ করেন।
— তাঁর পুরো নাম ফররুখ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আব্দুল হাই। তিনি ছিলেন একজন মুসলিম কবি ও সাহিত্যিক।
— তিনি মুসলিম রেনেসাঁর অন্যতম প্রধান কবি হিসেবে পরিচিত। তাঁর কবিতায় ইসলামি ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আদর্শের প্রভাব সুস্পষ্ট।
— তিনি কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ থেকে বিএ পাস করেন এবং পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন।
— তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে *সাত সাগরের মাঝি* (১৯৪৪), *নৌফেল ও হাতেম* (১৯৬১), *মহূর্তের কবিতা* (১৯৬৩), *পাখির বাসা* (১৯৬৫), *হাতেম তায়ী* (১৯৬৬) প্রভৃতি।
— তিনি বাংলা সাহিত্যে ইসলামি ভাবধারার কবিতাকে নতুন মাত্রা দিয়েছেন। তাঁর কবিতায় আরবি-ফারসি শব্দের ব্যবহার লক্ষণীয়।
— তিনি ১৯৭৪ সালের ১৯ অক্টোবর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।
— তাঁকে বাংলাদেশের জাতীয় কবি হিসেবে বিবেচনা করা হয় না, তবে তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান মুসলিম কবি হিসেবে সমাদৃত।
**‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— এটি ফররুখ আহমদের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ *সিরাজাম মুনিরা* প্রকাশিত হয় ১৯৩৭ সালে।
— এই কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯টি কবিতা রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলো হলো *সাত সাগরের মাঝি*, *পাঞ্জেরী*, *বিদ্রোহী পথিক*, *মহররম*, *দুর্দিনের যাত্রী* প্রভৃতি।
— *সাত সাগরের মাঝি* কবিতাটি এই গ্রন্থের শিরোনাম কবিতা হিসেবে পরিচিত। এটি একটি মহাকাব্যিক কবিতা যেখানে ইসলামি ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতিফলন ঘটেছে।
— এই গ্রন্থটি প্রকাশের পর থেকেই বাংলা সাহিত্যে ব্যাপক আলোচনা ও সমাদৃত হয়। এটি ইসলামি ভাবধারার কবিতার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ খ) আহসান হাবিব: তিনি একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কবি ছিলেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে *রাত্রিশেষ*, *ছায়াহরিণ*, *আশায় আশায়* প্রভৃতি। তিনি ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা নন।