ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) রামপ্রসাদ সেন
**শাক্ত পদাবলির প্রেক্ষাপট:**
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শাক্ত পদাবলি একটি গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্য ধারা হিসেবে আবির্ভূত হয়। শাক্ত পদাবলি মূলত দেবী ভক্তির গান, যেখানে দেবী দুর্গা, কালী, চণ্ডী প্রমুখ শক্তির স্তুতি করা হয়। এই ধারার প্রধান রচয়িতারা ছিলেন বিভিন্ন সাধক কবি, যারা নিজেদের ভক্তি ও সাধনার মাধ্যমে দেবীর মহিমা বর্ণনা করেছেন। শাক্ত পদাবলির জনপ্রিয়তা ও গুরুত্বের কারণে এটি বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
---
**রামপ্রসাদ সেন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— রামপ্রসাদ সেন ছিলেন অষ্টাদশ শতাব্দীর একজন বিখ্যাত বাঙালি কবি ও সাধক। তিনি শাক্ত পদাবলির অন্যতম প্রধান কবি হিসেবে পরিচিত।
— তার জন্ম ১৭১৮ খ্রিস্টাব্দে এবং মৃত্যু ১৭৭৫ খ্রিস্টাব্দে। তিনি পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার হালিশহরে জন্মগ্রহণ করেন।
— তিনি ছিলেন একজন শক্তিপূজক এবং দেবী কালীর প্রতি তার গভীর ভক্তি ছিল। তার রচিত পদাবলিতে দেবীর মহিমা, ভক্তিরস এবং তান্ত্রিক প্রভাব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
— তার বিখ্যাত গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে "বিদ্যাসুন্দর", "কালীকীর্তন", "অন্নদামঙ্গল", এবং "শ্যামাসঙ্গীত"। এছাড়াও তিনি অসংখ্য শ্যামাসঙ্গীত রচনা করেছেন যা আজও বাংলা সঙ্গীতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
— রামপ্রসাদ সেনের রচনাগুলো বাংলা সাহিত্যে শাক্ত পদাবলির ধারাকে সমৃদ্ধ করেছে এবং পরবর্তীকালে অন্যান্য কবিরা তার পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন।
---
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) রামনিধি গুপ্ত: তিনি ছিলেন একজন বৈষ্ণব পদকর্তা এবং তার রচিত পদাবলি বৈষ্ণব পদাবলির অন্তর্গত। তিনি "নিধুবাবু" নামে পরিচিত ছিলেন এবং তার রচনাগুলো বৈষ্ণব ভক্তিরস সমৃদ্ধ।
✗ খ) দাশরথি রায়: তিনি ছিলেন একজন বৈষ্ণব পদকর্তা এবং তার রচিত পদাবলি বৈষ্ণব পদাবলির অন্তর্গত। তিনি "দাশরথি" নামে পরিচিত ছিলেন এবং তার রচনাগুলো বৈষ্ণব ভক্তিরস সমৃদ্ধ।
✗ গ) এন্টনি ফিরিঙ্গি: তিনি ছিলেন একজন খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারক এবং বাংলা সাহিত্যে তার অবদান ছিল খ্রিস্টান ধর্ম সম্পর্কিত রচনা। তিনি শাক্ত পদাবলির সাথে সম্পর্কিত ছিলেন না।
---
উৎস:
- "বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস" — মুহম্মদ আবদুল হাই ও আনিসুজ্জামান
- "শাক্ত পদাবলি" — রামপ্রসাদ সেন (সংকলিত)
- "বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস" — ড. দেবেশচন্দ্র সেনগুপ্ত