ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) ময়ূর
শিখণ্ডী শব্দটি বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে ব্যবহৃত একটি বিশেষ শব্দ, যার অর্থ সাধারণত পুরুষ ময়ূরকে বোঝায়।
**ময়ূর সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— ময়ূর (Peacock) হলো ভারতীয় উপমহাদেশের একটি সুন্দর ও বর্ণাঢ্য পাখি, যা প্রধানত ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও নেপালে পাওয়া যায়।
— ময়ূরের ইংরেজি নাম Peacock হলেও স্ত্রী ময়ূরের নাম Peahen এবং বাচ্চাদের নাম Peachick।
— ময়ূরের পালক অত্যন্ত বর্ণিল ও দীর্ঘ হয়, যা প্রধানত প্রজনন মৌসুমে প্রদর্শনের জন্য ব্যবহৃত হয়।
— সংস্কৃতে ময়ূরকে "শিখণ্ডী" বলা হয়, কারণ এর মাথায় পালকের একটি বিশেষ স্তম্ভাকৃতি অংশ থাকে, যা দেখতে অনেকটা শিখা বা আগুনের মতো দেখা যায়।
— হিন্দু ধর্মে ময়ূরকে শ্রীবিষ্ণুর বাহন হিসেবে বিবেচনা করা হয়, এবং এটি শৌর্য ও সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত।
— ময়ূরের ডাককে বাংলায় "কেকা" বলা হয়, যা অনেকটা উচ্চস্বরে "কেকা কেকা" শব্দের মতো শোনায়।
— প্রাচীন বাংলা সাহিত্যে ময়ূরকে প্রেম ও সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যেমন চণ্ডীদাসের পদাবলীতে।
— ময়ূরের বৈজ্ঞানিক নাম হলো *Pavo cristatus*।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ (ক) কবুতর: কবুতর সাধারণত গৃহপালিত পাখি হিসেবে পরিচিত, যার সাথে শিখণ্ডী শব্দের কোনো সম্পর্ক নেই।
✗ (খ) কোকিল: কোকিল প্রধানত তার মধুর কণ্ঠের জন্য পরিচিত, কিন্তু শিখণ্ডী শব্দের অর্থ কোকিল নয়।
✗ (গ) খরগোশ: খরগোশ একটি স্তন্যপায়ী প্রাণী, যার সাথে শিখণ্ডী শব্দের কোনো সম্পর্ক নেই।
উৎস:
— বাংলা একাডেমি অভিধান (শিখণ্ডী শব্দের অর্থ)
— সংস্কৃত অভিধান (শিখণ্ডী শব্দের ব্যুৎপত্তি)
— চণ্ডীদাসের পদাবলী (ময়ূরের সাহিত্যিক উল্লেখ)
— জীববিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ (ময়ূরের বৈজ্ঞানিক নাম ও বৈশিষ্ট্য)