ঢাক্ ঢাক্ গুড় গুড় (গোপন রাখার চেষ্টা): ঢাক্ ঢাক্ গুড় গুড় করে কি লাভ, ব্যাপারটা খুলে বল।
‘শৈবাল দীঘিরে কহে উচ্চ করি শির; লিখে রেখ, একবিন্দু দিলেম শিশির।’ এ অংশটুকুর মূল প্রতিপাদ্য-
কপ্রতিদান
খপ্রত্যুপকার
গঅকৃতজ্ঞতা✓
ঘঅসহিষ্ণুতা
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) অকৃতজ্ঞতা
ভূমিকা:
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ‘ব্রজাঙ্গনা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ‘শৈবাল দীঘিরে কহে উচ্চ করি শির; লিখে রেখ, একবিন্দু দিলেম শিশির।’ অংশটি বাংলা সাহিত্যের একটি বিখ্যাত উক্তি। এই অংশটির মাধ্যমে কবি মানবচরিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছেন।
‘শৈবাল দীঘিরে কহে উচ্চ করি শির; লিখে রেখ, একবিন্দু দিলেম শিশির।’ অংশটির মূল প্রতিপাদ্য বিষয় বিশ্লেষণ:
— **শৈবাল ও দীঘির প্রসঙ্গ**: এখানে শৈবাল হলো অকৃতজ্ঞ মানুষের প্রতীক, আর দীঘি হলো উপকারী ব্যক্তির প্রতীক। শৈবাল দীঘিকে উচ্চ শিরে বলছে যে, দীঘি তাকে একবিন্দু শিশির দিয়েছে, যা তার জন্য খুব সামান্য উপকার। কিন্তু শৈবাল সেই সামান্য উপকারের কথা ভুলে গিয়ে নিজেকে মহান বলে দাবি করছে।
— **অকৃতজ্ঞতার প্রকাশ**: শৈবাল দীঘির প্রতি কৃতজ্ঞ নয়। দীঘি তাকে সামান্য উপকার করলেও শৈবাল তা স্বীকার করতে চায় না এবং নিজেকে মহান বলে প্রচার করে। এটি অকৃতজ্ঞতারই প্রকাশ।
— **মানবচরিত্রের প্রতিফলন**: এই উক্তির মাধ্যমে মানবচরিত্রের একটি নেতিবাচক দিক তুলে ধরা হয়েছে। মানুষ যখন সামান্য উপকার পেয়ে তা ভুলে যায় এবং নিজেকে মহান বলে প্রচার করে, তখন তা অকৃতজ্ঞতারই বহিঃপ্রকাশ।
— **সামাজিক বার্তা**: এই উক্তির মাধ্যমে সমাজে অকৃতজ্ঞ ব্যক্তিদের প্রতি সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। উপকারী ব্যক্তিদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিত এবং তাদের অবদান স্বীকার করা উচিত।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ (ক) প্রতিদান: এই অংশটির মাধ্যমে প্রতিদান বা প্রত্যুপকারের বিষয়টি তুলে ধরা হয়নি। এটি মূলত অকৃতজ্ঞতার বিষয়টি তুলে ধরেছে।
✗ (খ) প্রত্যুপকার: প্রত্যুপকার বলতে উপকারের প্রতিদান বোঝায়, যা এই অংশটির মূল প্রতিপাদ্য নয়।
✗ (ঘ) অসহিষ্ণুতা: অসহিষ্ণুতা বলতে ধৈর্য না থাকা বা অস্থিরতাকে বোঝায়, যা এই অংশটির সাথে সম্পর্কিত নয়।
উৎস:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ‘ব্রজাঙ্গনা’ কাব্যগ্রন্থ।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।
- বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার বাংলা সাহিত্য অংশের প্রশ্নব্যাংক।