ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) ইমানূয়েল কান্ট
‘শর্তহীন আদেশ’ ধারণাটি নৈতিক দর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি কান্টিয়ান নীতিশাস্ত্রের কেন্দ্রীয় ধারণা হিসেবে পরিচিত।
**ইমানূয়েল কান্ট সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— জন্ম: ২২ এপ্রিল ১৭২৪ সালে প্রুশিয়ার কনিগসবার্গে (বর্তমান কালিনিনগ্রাদ, রাশিয়া)।
— মৃত্যু: ১২ ফেব্রুয়ারি ১৮০৪ সালে কনিগসবার্গে।
— তিনি ছিলেন একজন জার্মান দার্শনিক এবং প্রাচীনকালের সর্বশ্রেষ্ঠ দার্শনিকদের একজন।
— তাঁর প্রধান অবদান হলো নৈতিক দর্শনে "কান্টিয়ান নীতিশাস্ত্র" প্রতিষ্ঠা, যা যুক্তিবাদ ও মানবতাবাদের উপর ভিত্তি করে নির্মিত।
— তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ *Critique of Pure Reason* (১৭৮১) দর্শনের ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটায়।
— তিনি "শর্তহীন আদেশ" (*Categorical Imperative*) ধারণাটির প্রবর্তক হিসেবে পরিচিত, যা নৈতিক কর্মের সর্বজনীন নীতিমালা হিসেবে কাজ করে।
— তাঁর মতে, নৈতিক কর্ম অবশ্যই সর্বজনীনভাবে গ্রহণযোগ্য হতে হবে এবং ব্যক্তির ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল নয়।
— তিনি বিশ্বাস করতেন যে মানুষের নৈতিক কর্ম অবশ্যই যুক্তির উপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত, আবেগ বা পরিণতির উপর নয়।
— তাঁর আরেকটি বিখ্যাত গ্রন্থ হলো *Groundwork of the Metaphysics of Morals* (১৭৮৫), যেখানে তিনি নৈতিকতার ভিত্তি বিশ্লেষণ করেছেন।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) অ্যারিস্টটল: তিনি ছিলেন প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক এবং তাঁর নৈতিক দর্শন ছিল "ভirtue ethics" কেন্দ্রিক, যেখানে তিনি ব্যক্তির চরিত্র ও গুণের উপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি "শর্তহীন আদেশ" ধারণাটির প্রবর্তক ছিলেন না।
✗ খ) বার্ট্রান্ড রাসেল: তিনি ছিলেন একজন ব্রিটিশ দার্শনিক এবং গণিতবিদ। তাঁর প্রধান অবদান ছিল যুক্তিবিদ্যা ও গণিতের দর্শনে। তিনি কান্টের মতো নৈতিক দর্শনে "শর্তহীন আদেশ" ধারণাটির প্রবর্তক ছিলেন না।
✗ গ) হার্বার্ট স্পেন্সার: তিনি ছিলেন একজন ইংরেজ সমাজবিজ্ঞানী এবং দার্শনিক। তাঁর প্রধান অবদান ছিল সামাজিক ডারউইনবাদ এবং ব্যবহারিক দর্শনে। তিনি কান্টের মতো নৈতিক দর্শনে "শর্তহীন আদেশ" ধারণাটির প্রবর্তক ছিলেন না।
উৎস:
1. Kant, Immanuel. *Groundwork of the Metaphysics of Morals*. (1785)
2. Kant, Immanuel. *Critique of Pure Reason*. (1781)
3. Scruton, Roger. *Kant: A Very Short Introduction*. Oxford University Press, 2001.