ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) মধুর রস
বৈষ্ণব পদাবলির সাহিত্যে প্রেম ও ভক্তির রসকে বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছে। শৃঙ্গার রস হলো এমন একটি রস যা প্রেমিক-প্রেমিকার পারস্পরিক প্রেম ও আকর্ষণের অনুভূতিকে প্রকাশ করে। বৈষ্ণব সাহিত্যে এই রসকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে কারণ এটি ভক্তির মাধ্যমে পরমাত্মার সঙ্গে মিলনের অনুভূতিকে প্রকাশ করে।
**মধুর রস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— বৈষ্ণব পদাবলিতে মধুর রস হলো প্রেম ও ভক্তির এমন একটি রূপ যা প্রেমিক-প্রেমিকার সম্পর্কের মাধ্যমে পরমাত্মার সঙ্গে মিলনের অনুভূতিকে প্রকাশ করে।
— মধুর রসকে বৈষ্ণব সাহিত্যে সর্বোচ্চ স্থান দেওয়া হয়েছে কারণ এটি ভক্তির সর্বোচ্চ স্তর হিসেবে বিবেচিত হয়।
— এই রসের মাধ্যমে ভক্ত পরমাত্মার সঙ্গে মিলনের অনুভূতি লাভ করে, যা বৈষ্ণব দর্শনের কেন্দ্রীয় বিষয়।
— মধুর রসকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে: সখ্য ভাব ও মাধুর্য ভাব। সখ্য ভাবে ভক্ত ও পরমাত্মা একে অপরের সঙ্গী হিসেবে বিবেচিত হন, আর মাধুর্য ভাবে ভক্ত পরমাত্মাকে প্রেমিক হিসেবে গ্রহণ করেন।
**ভাবরস সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা:**
✗ ক) ভাবরস: ভাবরস হলো বৈষ্ণব পদাবলিতে ভক্তির বিভিন্ন অবস্থাকে প্রকাশ করার রস। এটি প্রধানত ভক্তির বিভিন্ন ভাব যেমন দাস্য ভাব, সখ্য ভাব, বাৎসল্য ভাব ইত্যাদির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। শৃঙ্গার রস ভাবরসের অন্তর্ভুক্ত নয়।
**প্রেমরস সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা:**
✗ গ) প্রেমরস: প্রেমরস হলো সাধারণভাবে প্রেমের অনুভূতিকে প্রকাশ করার রস। তবে বৈষ্ণব পদাবলিতে প্রেমরসকে বিশেষভাবে মধুর রস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই শৃঙ্গার রসকে সরাসরি প্রেমরস বলা যায় না।
**লীলারস সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা:**
✗ ঘ) লীলারস: লীলারস হলো বৈষ্ণব পদাবলিতে পরমাত্মার লীলা বা ক্রিয়াকলাপকে প্রকাশ করার রস। এটি পরমাত্মার বিভিন্ন লীলা যেমন রাসলীলা, গোলোকলীলা ইত্যাদির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। শৃঙ্গার রস লীলারসের অন্তর্ভুক্ত নয়।
উৎস:
— বৈষ্ণব পদাবলি সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
— বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, অধ্যাপক আবদুল হাই
— বৈষ্ণব সাহিত্য পরিচিতি, ড. দীনেশচন্দ্র সেন