সঠিক উত্তর: (ক) রামাই পণ্ডিত
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের ধর্মীয় সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ ‘শূন্যপুরাণ’ সম্পর্কে ধারণা লাভের জন্য বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রায়শই প্রশ্ন আসে। বিশেষত BCS, NTRCA, ব্যাংক ও প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের ধর্মীয় সাহিত্য বিষয়ক প্রশ্নগুলো গুরুত্ব পায়। ‘শূন্যপুরাণ’ হলো বাংলা ভাষায় রচিত একটি ধর্মগ্রন্থ যা বৌদ্ধ ধর্মের মহাযান শাখার তত্ত্ব ও দর্শনকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে।
‘শূন্যপুরাণ’ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— ‘শূন্যপুরাণ’ রচনা করেন কবি রামাই পণ্ডিত। তিনি ত্রয়োদশ শতাব্দীর একজন প্রখ্যাত কবি ছিলেন।
— এটি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মগ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রাচীন যুগের বাংলা সাহিত্যে ধর্মীয় গ্রন্থ হিসেবে এটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
— ‘শূন্যপুরাণ’ মূলত মহাযান বৌদ্ধধর্মের শূন্যতত্ত্বের উপর ভিত্তি করে রচিত হয়েছে। এতে বৌদ্ধ ধর্মের দর্শন ও তত্ত্বের ব্যাখ্যা রয়েছে।
— গ্রন্থটি মূলত সংস্কৃত ভাষায় রচিত বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থের বাংলা অনুবাদ বা অনুসরণে রচিত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
— ‘শূন্যপুরাণ’-এর মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে ধর্মীয় বিষয়বস্তুর প্রবর্তন ঘটে এবং পরবর্তীকালে বাংলা সাহিত্যের ধর্মীয় গ্রন্থ রচনার ধারাকে প্রভাবিত করে।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ খ) শ্রীকর নন্দী: শ্রীকর নন্দী ছিলেন বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের একজন প্রখ্যাত কবি। তিনি ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ নামক কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা হিসেবে পরিচিত। ‘শূন্যপুরাণ’ তাঁর রচনা নয়।
✗ গ) বিজয় গুপ্ত: বিজয় গুপ্ত ছিলেন মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের একজন উল্লেখযোগ্য কবি। তিনি ‘মনসামঙ্গল’ কাব্যের রচয়িতা হিসেবে পরিচিত। তাঁর রচনাবলির মধ্যে ‘শূন্যপুরাণ’ অন্তর্ভুক্ত নয়।
✗ ঘ) লোচন দাস: লোচন দাস ছিলেন মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের একজন ধর্মীয় কবি। তিনি ‘চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্যের অন্যতম রচয়িতা হিসেবে পরিচিত। তাঁর রচনাবলির মধ্যে ‘শূন্যপুরাণ’ অন্তর্ভুক্ত নয়।
উৎস:
— ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত ‘বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস’ (প্রথম খণ্ড)
— ড. দীনেশচন্দ্র সেন রচিত ‘বঙ্গভাষা ও সাহিত্য’ (প্রথম খণ্ড)
— বাংলা একাডেমি প্রকাশিত ‘বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস’ (প্রথম খণ্ড)