ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) কাহ্নপা
চর্যাপদ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা:
চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন হিসেবে পরিচিত। এটি মূলত বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকদের রচিত গীতিকবিতা সংকলন। খ্রিস্টীয় দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত এই পদগুলোতে তৎকালীন সমাজ, ধর্ম ও জীবনের চিত্র ফুটে উঠেছে। চর্যাপদের আবিষ্কার ও প্রকাশ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
**কাহ্নপা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— কাহ্নপা ছিলেন চর্যাপদের অন্যতম প্রধান কবি। তাঁর প্রকৃত নাম কৃষ্ণাচার্য বা কৃষ্ণপাদ।
— তিনি ছিলেন বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকদের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।
— চর্যাপদে তাঁর রচিত পদসংখ্যা সর্বাধিক — প্রায় ১৩টি পদ পাওয়া গেছে।
— তাঁর পদগুলোতে সহজিয়া বৌদ্ধ দর্শনের গূঢ় তত্ত্ব সহজ ও সরল ভাষায় উপস্থাপিত হয়েছে।
— কাহ্নপা তাঁর পদে ভক্তি ও প্রেমের মাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতি প্রকাশ করেছেন।
— তাঁর রচনায় প্রাকৃত ও সংস্কৃত ভাষার মিশ্রণ দেখা যায়।
— কাহ্নপা সম্পর্কে প্রচলিত কাহিনী অনুসারে তিনি ছিলেন একজন রাজপুত্র, পরবর্তীতে তিনি বৌদ্ধ সাধনায় যোগ দেন।
**লুইপা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— লুইপা ছিলেন চর্যাপদের আদি কবি হিসেবে বিবেচিত।
— তাঁর রচিত পদসংখ্যা মাত্র একটি — "চর্যাপদের প্রথম পদ" নামে পরিচিত।
— তিনি ছিলেন বৌদ্ধ সহজিয়া সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন।
— তাঁর পদটি মূলত ধর্মীয় সাধনার সূচনা হিসেবে বিবেচিত হয়।
**শবরপা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— শবরপা ছিলেন চর্যাপদের আরেকজন গুরুত্বপূর্ণ কবি।
— তাঁর রচিত পদসংখ্যা প্রায় ৪টি।
— তিনি ছিলেন সহজিয়া সম্প্রদায়ের একজন বিশিষ্ট সাধক।
— তাঁর পদগুলোতে ধর্মীয় অনুভূতি ও দার্শনিক চিন্তার প্রকাশ ঘটেছে।
**ভুসুকুপা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— ভুসুকুপা ছিলেন চর্যাপদের আরেকজন প্রধান কবি।
— তাঁর রচিত পদসংখ্যা প্রায় ৮টি।
— তিনি ছিলেন বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকদের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।
— তাঁর পদগুলোতে ধর্মীয় ভক্তি ও প্রেমের প্রকাশ ঘটেছে।
— তাঁর রচনায় প্রাকৃত ও সংস্কৃত ভাষার মিশ্রণ দেখা যায়।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ ক) লুইপা: চর্যাপদের আদি কবি হলেও তাঁর রচিত পদসংখ্যা মাত্র একটি।
✗ খ) শবরপা: তাঁর রচিত পদসংখ্যা প্রায় ৪টি, যা কাহ্নপার তুলনায় কম।
✗ গ) ভুসুকুপা: তাঁর রচিত পদসংখ্যা প্রায় ৮টি, যা কাহ্নপার তুলনায় কম।
উৎস:
— চর্যাপদ (আবিষ্কারক: মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, প্রকাশকাল: ১৯১৬)
— বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ)
— বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (ড. দেবেশচন্দ্র সেনগুপ্ত)