ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর:
গ) অস্তিত্ববাদ (
Existentialism)
।
•
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর
‘
চাঁদের অমাবস্যা
’
এবং অস্তিত্ববাদী জীবনদর্শন:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘চাঁদের অমাবস্যা’ (১৯৬৪) উপন্যাসে অস্তিত্ববাদী জীবনদর্শনের রূপায়ণ ঘটেছে। এই উপন্যাসে লেখক পাশ্চাত্য অস্তিত্ববাদী দর্শন আত্মস্থ করে ব্যক্তির অস্তিত্ব সংকট, মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব, একাকীত্ব এবং জীবনের অর্থহীনতার অনুসন্ধান তুলে ধরেছেন। চেতনাপ্রবাহ শৈলীর মাধ্যমে নায়ক আরেফ আলীর মানসিক যাত্রা এই দর্শনের প্রতিফলন ঘটায়, যেখানে ব্যক্তি সমাজের বাইরে নিজের অস্তিত্বের স্বাধীনতা ও সংকট খুঁজে পান। সমালোচকরা (যেমন: ড. আহমেদ মাওলা) এটিকে অস্তিত্ববাদী উপন্যাস হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
মূল বিষয়বস্তু ও বৈশিষ্ট্যসমূহ:
এই উপন্যাসে নায়ক আরেফ আলী
,
একজন স্কুল মাস্টার
,
যিনি একটি অপরাধমূলক কাজের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে মানসিক দ্বন্দ্ব ও অস্তিত্ব সংকটের মধ্য দিয়ে যান। তাঁর মনোগত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এই উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়। এই মানসিক দ্বন্দ্ব
,
জীবনের অর্থহীনতা
,
একাকীত্ব এবং স্বাধীনতার অনুসন্ধান অস্তিত্ববাদী দর্শনের মূল উপাদান। উপন্যাসটি সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের অসঙ্গতি এবং মানুষের অন্তর্জীবনের জটিলতাকেও তুলে ধরে
,
যা আরেফের চেতনাপ্রবাহ শৈলীর মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে
,
উপন্যাসটি অস্তিত্ববাদী দর্শনের প্রতিফলন ঘটায়
,
যেখানে ব্যক্তির অস্তিত্ব
,
নৈতিক দ্বন্দ্ব এবং সমাজের সঙ্গে তার সম্পর্কের প্রশ্ন উঠে আসে।
অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ:
(
ক) মার্কসবাদ: উপন্যাসে শ্রেণিবৈষম্যের কিছু ছোঁয়া থাকলেও
,
এটি মার্কসীয় শ্রেণিসংগ্রামের দর্শনের উপর কেন্দ্রীভূত নয়।
(
ক) বাস্তববাদ: চাঁদের অমাবস্যায় মানসিক ও অস্তিত্বগত অনুসন্ধান প্রাধান্য পায়
;
বাস্তববাদ নয়।
(
ক) পরাবাস্তববাদ: উপন্যাসে কিছু পরাবাস্তব উপাদান (যেমন: অদ্ভুত ঘটনা) থাকলেও
,
মূল দর্শন অস্তিত্ববাদী।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; ‘চাঁদের অমাবস্যা’ উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া; “চাঁদের অমাবস্যা : অস্তিত্বসংকট ও চেতনাপ্রবাহ- অধ্যাপক ড. আহমেদ মাওলা, বাংলা বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।