ব্যাখ্যা
•
‘
সকলের তরে সকলে আমরা
,
প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।
‘
পঙ্ক্তিদ্বয় কামিনী রায় রচিত
‘
সুখ
‘
কবিতার অন্তর্গত।
– মাত্র পনের বছর বয়সে তিনি ‘আলো ও ছায়া’ নামে একটি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেছিলেন। ‘সুখ’ কবিতাটি ঐ কাব্যগ্রন্থেরই অন্তর্ভুক্ত।
– আমরা সবাই জীবনে সুখী হতে চাই। কিন্তু কীভাবে জীবনে সুখ আসতে পারে, ‘সুখ’ কবিতায় কবি সে সম্পর্কে তাঁর ধারণা তুলে ধরেছেন।
‘’সুখ’ কবিতার কিছু অংশ সংক্ষেপে দেয়া হলো-
সুখ
–
কামিনী রায়
আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে
আসে নাই কেহ অবনী
‘
পরে
,
সকলের তরে সকলে আমরা
,
প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।
পঙ্ক্তিটির
বিষয়ে প্রচলিত কিছু বিভ্রন্তি:
কামিনী রায়ের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘আলো ও ছায়া’ যার একটি কবিতার নাম ‘সুখ’। ‘পরার্থে’ নামে কামিনী রায়ের কাব্যগ্রন্থে কোন কবিতা নেই। কিন্তু, পুরনো বোর্ড বইয়ে [২০১৪ সালের] ‘সুখ’ কবিতার কিছু অংশ নিয়ে ‘পরার্থে’ নামে একটি কবিতা প্রকাশিত হয়। বড় গ্রন্থের অংশ বিশেষ নিয়ে অন্য নামে কবিতা বা গল্প বোর্ড বইয়ে দেওয়া হয়ে থাকে এবং ক্ষেত্রেও সেরকম ঘটেছে।বর্তমান ২০২৫ সালের বোর্ড বইতে মূল কবিতার নাম অনুসারে ‘সুখ’ কবিতা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং সেই অনুসারেই উত্তর ধরা হয়েছে।
দ্রষ্টব্য: আমাদের আর্কাইভে যে দুয়েকবার এটা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে, সেখানে অপশনে ‘সুখ’ ছিল না।
বিভ্রান্তির কারণ:
– সুখ কবিতার উল্লিখিত পঙ্ক্তিতে পরার্থপরতা ও সামাজিক সম্প্রীতির প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ‘পরার্থে’ শব্দটি এই পঙ্ক্তির মূল ভাবের সাথে মিলে যাওয়ায় অনেকে ভুল করে এটিকে ‘পরার্থে’ নামক কবিতার অংশ মনে করেন। কিন্তু কামিনী রায়ের কোনো কবিতা ‘পরার্থে’ নামে পরিচিত নয়।
?
পরীক্ষায় যদি অপশনে শুধু পরার্থে থাকে
→
উত্তর হবে পরার্থে।
?
যদি শুধু সুখ থাকে
→
উত্তর হবে সুখ।
?
যদি সুখ ও পরার্থে দুটোই থাকে
→
সঠিক উত্তর হবে সুখ।
•
কামিনী রায়:
– কামিনী রায় ছিলেন কবি ও সমাজকর্মী। ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
– একসময় তিনি ‘জনৈক বঙ্গমহিলা’ ছদ্মনামে লিখতেন। তাঁর কবিতা সহজ, সরল, মানবিক ও উপদেশমূলক। তাঁর কবিতায় জীবনের মহৎ আদর্শের প্রতি গভীর অনুরাগের পরিচয় আছে।
– সাহিত্যসাধনার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের (১৯২৯) ‘জগত্তারিণী পদকে’ সম্মানিত হন।
– তিনি ‘নারী শ্রম তদন্ত কমিশন’ (১৯২২-২৩) এর সদস্য ছিলেন।
– তিনি ২৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৩ সালে হাজারীবাগ, বিহারে মৃত্যুবরণ করেন।
– ‘আলো ও ছায়া’ (১৮৮৯): এটি তাঁর ১৫ বছর বয়সে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ। এ গ্রন্থের ভূমিকা লেখেন হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।
– ১৯৩৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।
তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
– নির্মাল্য, পৌরাণিকী, গুঞ্জন (শিশুকাব্য), ধৰ্ম্মপুত্র (অনুবাদ), মাল্য ও নির্মাল্য, অশোকসঙ্গীত (সনেট), অম্বা (নাটক)।
উৎস: বাংলাপিডিয়া; ‘আলো ও ছায়া’ কাব্যগ্রন্থ এবং চারুপাঠ ষষ্ঠ শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।