ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) ভাই গিরীশচন্দ্র সেন
<বাংলাদেশে ধর্মীয় গ্রন্থ অনুবাদ ও ইসলামি সাহিত্য চর্চার ইতিহাস সম্পর্কিত ভূমিকা>
**ভাই গিরীশচন্দ্র সেন** সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— তিনি ছিলেন একজন ব্রাহ্ম ধর্মপ্রচারক ও বাংলা সাহিত্যের অন্যতম পথিকৃৎ। তার পুরো নাম ছিল গিরীশচন্দ্র সেন।
— তিনি ১৮৩৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার বালি শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
— তিনি ব্রাহ্ম ধর্ম গ্রহণ করার পর থেকেই ধর্মীয় গ্রন্থ অনুবাদে মনোনিবেশ করেন।
— তিনি সর্বপ্রথম **সমগ্র পবিত্র কুরআন শরীফের বাংলা অনুবাদ** সম্পন্ন করেন। তার অনুবাদটি ১৮৮৬ সালে প্রকাশিত হয়।
— তার অনুবাদটি ছিল সরল ও সহজবোধ্য ভাষায়, যা সাধারণ মানুষের কাছে ইসলাম ধর্মের বার্তা পৌঁছে দিতে সহায়ক হয়েছিল।
— তিনি শুধু কুরআন অনুবাদই করেননি, বরং হাদিস গ্রন্থ "মিশকাতুল মাসাবিহ" ও অন্যান্য ইসলামি ধর্মগ্রন্থেরও বাংলা অনুবাদ করেছিলেন।
— তিনি বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য "ভাই" উপাধিতে ভূষিত হন।
— তার অনুবাদ কর্মের ফলে বাংলাভাষী মুসলমানদের মধ্যে ধর্মীয় জ্ঞান বৃদ্ধি পায় এবং হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে ধর্মীয় সম্প্রীতি স্থাপনে ভূমিকা রাখে।
— তিনি ১৯৩৭ সালের ১৬ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ গোলাম মোস্তফা: তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত মুসলিম সাহিত্যিক ও কবি, কিন্তু তিনি কুরআনের অনুবাদ করেননি। তার উল্লেখযোগ্য রচনা হলো "বিশ্বনবী" ও "মরু ভাস্কর"।
✗ ফররুখ আহমদ: তিনি একজন বিখ্যাত মুসলিম কবি ছিলেন, কিন্তু তিনি কুরআনের অনুবাদ করেননি। তার বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ হলো "সিরাজাম মুনিরা"।
✗ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়: তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট ভাষাবিদ ও শিক্ষাবিদ, কিন্তু তিনি কুরআনের অনুবাদ করেননি। তার উল্লেখযোগ্য কাজ হলো বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও ভাষাতত্ত্ব বিষয়ক গ্রন্থ।
উৎস:
— "ভাই গিরীশচন্দ্র সেন স্মারক গ্রন্থ", সম্পাদনা: ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, বাংলা একাডেমি, ১৯৮৬।
— "ইসলামি বিশ্বকোষ", ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ২০০৫।
— "বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস", ড. মুহম্মদ আবদুল হাই ও ড. আনিসুজ্জামান, বাংলা একাডেমি, ২০১৩।