ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) চর্যাপদ
<বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন হিসেবে চর্যাপদের গুরুত্ব সম্পর্কে>
**চর্যাপদ** সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন হিসেবে পরিচিত। এটি খ্রিস্টীয় দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।
— চর্যাপদ মূলত বৌদ্ধ সহজযান সম্প্রদায়ের সাধকদের রচনা। এতে তান্ত্রিক বৌদ্ধধর্মের প্রভাব স্পষ্ট।
— চর্যাপদের ভাষাকে "সন্ধ্যাভাষা" বলা হয়। কারণ এতে প্রচলিত বাংলা ভাষার পাশাপাশি সংস্কৃত, প্রাকৃত ও অপভ্রংশ ভাষার মিশ্রণ দেখা যায়।
— চর্যাপদের পদগুলো মূলত গান বা গীতিকবিতা আকারে রচিত। এতে ধর্মীয় সাধনার বর্ণনা থাকলেও ভাষাগত দিক থেকে এটি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন।
— চর্যাপদের পদগুলো আবিষ্কৃত হয় নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে ১৯০৭ সালে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর নেতৃত্বে। এটি প্রকাশিত হয় ১৯১৬ সালে।
**সন্ধ্যাভাষা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— সন্ধ্যাভাষা হলো এমন এক ধরনের ভাষা যা গোপন অর্থ প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হতো। চর্যাপদে ধর্মীয় সাধনার গূঢ় অর্থ প্রকাশের জন্য এই ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে।
— সন্ধ্যাভাষায় ব্যবহৃত শব্দগুলো প্রায়শই দ্ব্যর্থক বা রূপক অর্থ বহন করে। যেমন: "ডোম্বী" শব্দটি দ্বারা সাধারণত নারীকে বোঝালেও চর্যাপদে এটি সাধিকার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
— সন্ধ্যাভাষা ব্যবহারের কারণ ছিল ধর্মীয় সাধনার গোপনীয়তা রক্ষা করা এবং সাধারণ মানুষের কাছে ধর্মের সারমর্ম সহজে প্রকাশ না করা।
— চর্যাপদের ভাষা বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, এতে বাংলা ভাষার প্রাথমিক রূপের নমুনা পাওয়া যায়, যা পরবর্তীকালে বাংলা ভাষার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ খ) পদাবলি: পদাবলি মূলত বৈষ্ণব পদাবলির সঙ্গে যুক্ত, যেখানে সাধনার ভাষা হিসেবে বাংলা ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে। তবে এটি চর্যাপদের মতো সন্ধ্যাভাষা নয়।
✗ গ) মঙ্গলকাব্য: মঙ্গলকাব্য বাংলা সাহিত্যের একটি ধারা যেখানে দেবদেবীর স্তুতি করা হয়েছে। এতে সন্ধ্যাভাষার ব্যবহার নেই।
✗ ঘ) রোমান্সকাব্য: রোমান্সকাব্য হলো বাংলা সাহিত্যের একটি ধারা যেখানে প্রেম ও রোমান্সের বর্ণনা রয়েছে। এতে সন্ধ্যাভাষার ব্যবহার নেই।
উৎস:
— ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, *বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস*
— ড. দীনেশচন্দ্র সেন, *বঙ্গভাষা ও সাহিত্য*
— হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, *হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা*