ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) নিপাতনে সিদ্ধ
সন্ধি-সাধিত শব্দ গঠনের ক্ষেত্রে বাংলা ভাষায় বিভিন্ন নিয়ম প্রচলিত। ‘পরস্পর’ শব্দটি সন্ধির মাধ্যমে গঠিত হলেও এটি কোনো সাধারণ নিয়মে গঠিত হয়নি, বরং এটি একটি বিশেষ ধরনের সন্ধির উদাহরণ যেখানে নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটেছে।
**‘পরস্পর’ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— ‘পরস্পর’ শব্দটি ‘পর + পর’ শব্দ দুটির সন্ধির মাধ্যমে গঠিত হয়েছে।
— সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, স্বরধ্বনির সাথে স্বরধ্বনি যুক্ত হলে সেগুলো মিলিত হয়ে একটি স্বরধ্বনি গঠিত হয় (যেমন: ‘পর + অধিকার = পরাধিকার’)। কিন্তু ‘পর + পর’ যুক্ত হয়ে ‘পরস্পর’ হয়েছে, যা স্বাভাবিক নিয়মের ব্যতিক্রম।
— বাংলা ভাষায় এমন কিছু সন্ধি আছে যেগুলো নিয়ম অনুসারে গঠিত হয় না, বরং প্রচলিত রীতি অনুসারে ব্যবহৃত হয়। এ ধরনের সন্ধিকে **নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি** বলা হয়।
— ‘পরস্পর’ ছাড়াও আরও কিছু নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ হলো: ‘অহর্নিশ’, ‘পুরস্কার’, ‘ষষ্ঠ’, ‘ষোড়শ’, ‘পরন্তু’ ইত্যাদি।
— নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করা হয় না, বরং প্রচলিত রীতি ও ব্যবহার অনুসারে শব্দ গঠিত হয়।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) ব্যঞ্জন ধ্বনি: ব্যঞ্জন ধ্বনি সন্ধির ক্ষেত্রে ব্যঞ্জন বর্ণের সাথে ব্যঞ্জন বর্ণ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় (যেমন: ‘দিক্ + অন্ত = দিগন্ত’)। ‘পরস্পর’ শব্দটি ব্যঞ্জন ধ্বনি সন্ধির উদাহরণ নয়।
✗ খ) স্বরধ্বনি: স্বরধ্বনি সন্ধির ক্ষেত্রে স্বরধ্বনি যুক্ত হয়ে নতুন স্বরধ্বনি গঠিত হয় (যেমন: ‘হরি + ইন্দ্র = হরেন্দ্র’)। ‘পরস্পর’ শব্দটি স্বরধ্বনি সন্ধির নিয়ম অনুসারে গঠিত হয়নি।
✗ ঘ) বিসর্গ সন্ধি: বিসর্গ সন্ধির ক্ষেত্রে শব্দের শেষে বিসর্গ (ঃ) থাকলে তা পরবর্তী বর্ণের সাথে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় (যেমন: ‘নিঃ + রোগ = নীরোগ’)। ‘পরস্পর’ শব্দটির সাথে বিসর্গ সন্ধির কোনো সম্পর্ক নেই।
**উৎস:**
— বাংলা একাডেমি ব্যবহারিক বাংলা অভিধান (২০১৬ সংস্করণ)
— বাংলা ব্যাকরণ ও রচনা (ড. হায়াৎ মামুদ)
— মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (বোর্ড প্রণীত)