ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) ২৫%
মিয়ানমারের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সামরিক বাহিনীর প্রভাব সম্পর্কিত প্রেক্ষাপট:
মিয়ানমারের সংবিধান অনুযায়ী দেশটির পার্লামেন্টে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের জন্য আসন সংরক্ষণের বিধান রয়েছে। এই বিধানটি সামরিক শাসনের সময়কালে প্রণীত সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যা সামরিক বাহিনীকে রাজনৈতিক ক্ষমতায় অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করে। সামরিক বাহিনীর প্রভাব কমানোর জন্য বিভিন্ন সময়ে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বর্তমান সংবিধানে এই বিধানটি রয়ে গেছে।
মিয়ানমারের সংবিধান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— মিয়ানমারের সংবিধানটি ২০০৮ সালে গণভোটের মাধ্যমে গৃহীত হয়েছিল এবং ২০১১ সালে কার্যকর করা হয়।
— সংবিধানের ধারা ৫৯(এফ) অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হওয়ার জন্য প্রার্থীকে অবশ্যই "সংবিধান দ্বারা অনির্বাচিত ব্যক্তি" হতে হবে না। এটি মূলত সামরিক বাহিনীর সদস্যদের রাষ্ট্রপতি হওয়ার পথ সুগম করে।
— সংবিধানের ধারা ১০৯ অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ (Amyotha Hluttaw) এবং নিম্নকক্ষ (Pyithu Hluttaw)-এর মোট আসনের ২৫% সামরিক বাহিনীর সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত।
— সামরিক বাহিনীর সদস্যরা সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও তারা নির্বাচিত হন না, বরং সামরিক কর্তৃপক্ষ দ্বারা মনোনীত হন।
— এই সংরক্ষিত আসন ব্যবস্থার ফলে সামরিক বাহিনী সংসদে উল্লেখযোগ্য প্রভাব রাখতে পারে, এমনকি সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রেও তাদের সম্মতি প্রয়োজন হয়।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ খ) ৩৫%: মিয়ানমারের সংবিধানে সামরিক বাহিনীর জন্য সংরক্ষিত আসনের হার ৩৫% নয়। এটি একটি অতিরঞ্জিত সংখ্যা।
✗ গ) ৪৫%: ৪৫% আসন সংরক্ষণের কোনো বিধান সংবিধানে উল্লেখ নেই। এটি সম্পূর্ণ ভুল তথ্য।
✗ ঘ) ৫৫%: সামরিক বাহিনীর জন্য ৫৫% আসন সংরক্ষণের বিধান সংবিধানে নেই। এটি অত্যন্ত অতিরঞ্জিত এবং ভুল তথ্য।
উৎস:
— Myanmar Constitution (2008), Article 109
— "Myanmar’s 2008 Constitution: The Politics of Displacement" by Melissa Crouch
— "Understanding the Myanmar Constitution" by International Crisis Group