ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) ৪র্থ তফসিল
**সংবিধানের তফসিল সম্পর্কিত ভূমিকা:**
বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫টি তফসিল রয়েছে, যেগুলো সংবিধানের বিভিন্ন অংশের ব্যাখ্যা, তালিকা ও আনুষঙ্গিক তথ্য প্রদান করে। এসব তফসিলের মধ্যে কিছু তফসিল সামরিক শাসন বা বিশেষ পরিস্থিতিতে সংবিধানের কিছু ধারা স্থগিত রাখার বৈধতা প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে। বিশেষ করে সামরিক শাসনামলে সংবিধানের চেতনার বিপরীতে ক্ষমতা দখলের বৈধতা দিতে ৪র্থ তফসিলের অপব্যবহার করা হয়েছে।
---
**৪র্থ তফসিল সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— ৪র্থ তফসিলটি মূলত "ক্রান্তিকালীন ও বিশেষ বিধানাবলী" শিরোনামে অন্তর্ভুক্ত। এটি সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের অধীনে প্রণীত হয়েছে।
— এই তফসিলে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি সংবিধানের কিছু ধারা স্থগিত রাখতে পারবেন। এটি মূলত সামরিক শাসন বা জরুরি অবস্থার সময় সংবিধানের কিছু অংশ স্থগিত রাখার বৈধতা প্রদানের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।
— ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট থেকে শুরু হওয়া সামরিক শাসনামলে এই তফসিলের অপব্যবহার করা হয়। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদ এবং পরবর্তী সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এই তফসিলকে ব্যবহার করে সংবিধানের চেতনার বিপরীতে ক্ষমতা দখলের বৈধতা প্রদান করেন।
— ৪র্থ তফসিলের মাধ্যমে সংবিধানের ৪৮(৩), ৫৬(৩), ১৪১ক প্রভৃতি ধারাগুলো স্থগিত রাখা হয়েছিল, যা মূলত গণতন্ত্রের মূলনীতি ও জনগণের অধিকারের বিরুদ্ধে ছিল।
---
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ খ) ৫ম তফসিল: এটি মূলত "জাতীয় সংগীত, পতাকা ও প্রতীক" সম্পর্কিত বিধিবিধান নিয়ে গঠিত। এটি সামরিক শাসনের বৈধতা প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়নি।
✗ গ) ৬ষ্ঠ তফসিল: এটি মূলত "জাতীয় সংসদের নির্বাচন সম্পর্কিত বিধানাবলী" নিয়ে গঠিত। এটি সামরিক শাসনের বৈধতা প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়নি।
✗ ঘ) ৭ম তফসিল: এটি মূলত "বিচার বিভাগ সম্পর্কিত বিধানাবলী" নিয়ে গঠিত। এটি সামরিক শাসনের বৈধতা প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়নি।
---
উৎস:
— বাংলাদেশের সংবিধান (প্রথম প্রকাশ: ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২, সংশোধিত সংস্করণ)
— "বাংলাদেশের সংবিধান: ইতিহাস ও রাজনীতি" — ড. এমাজউদ্দিন আহমদ
— "সংবিধান প্রণয়ন ও বাংলাদেশের রাজনীতি" — ড. কামাল হোসেন