ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) ১৩৭
**সরকারি কর্ম কমিশন গঠন সম্পর্কিত সংবিধানের বিধান:**
বাংলাদেশের সংবিধানের ১৩৭ অনুচ্ছেদে সরকারি কর্ম কমিশন গঠনের বিধান উল্লেখ রয়েছে। এই অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতি সরকারি কর্ম কমিশন গঠন করবেন এবং এর গঠন, দায়িত্ব ও কার্যাবলি নির্ধারণের জন্য আইন প্রণয়নের ক্ষমতা সংসদকে প্রদান করা হয়েছে।
---
**সরকারি কর্ম কমিশন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— সরকারি কর্ম কমিশন (পাবলিক সার্ভিস কমিশন) হলো বাংলাদেশের একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, যা সরকারি চাকরিতে নিয়োগের জন্য পরীক্ষা পরিচালনা ও যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করে।
— সংবিধানের ১৩৭ থেকে ১৪১ অনুচ্ছেদ পর্যন্ত সরকারি কর্ম কমিশনের গঠন, দায়িত্ব ও ক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে।
— সরকারি কর্ম কমিশনের প্রধানকে চেয়ারম্যান বলা হয়, যিনি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হন।
— কমিশনের সদস্য সংখ্যা ও মেয়াদ সংবিধান বা আইনের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। সাধারণত সদস্য সংখ্যা ৬ থেকে ১১ জন পর্যন্ত হতে পারে।
— সরকারি কর্ম কমিশনের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে:
— সরকারি চাকরিতে নিয়োগের জন্য পরীক্ষা পরিচালনা।
— সরকারি কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও বদলির ক্ষেত্রে মতামত প্রদান।
— সরকারকে প্রশাসনিক সংস্কার ও জনপ্রশাসন ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে পরামর্শ প্রদান।
— সরকারি কর্ম কমিশনের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য সংবিধানে বিশেষ বিধান রয়েছে। কমিশনের বিরুদ্ধে কোনো আদালতে মামলা করা যায় না, তবে এর কার্যক্রমের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যেতে পারে।
— সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্যদের পদমর্যাদা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির সমান বলে বিবেচিত হয়।
— কমিশনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আলাদা সচিবালয় রয়েছে, যা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ।
---
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) ১৩০: এই অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব ও ক্ষমতা সম্পর্কে বর্ণনা রয়েছে, সরকারি কর্ম কমিশন গঠনের উল্লেখ নেই।
✗ খ) ১৩১: এই অনুচ্ছেদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব ও ক্ষমতা সম্পর্কে বর্ণনা রয়েছে, সরকারি কর্ম কমিশন গঠনের উল্লেখ নেই।
✗ ঘ) ১৪০: এই অনুচ্ছেদে সরকারি কর্ম কমিশনের শপথ ও কার্যক্রম পরিচালনার বিধান রয়েছে, তবে গঠনের উল্লেখ নেই। গঠন সম্পর্কিত বিধান ১৩৭ অনুচ্ছেদে রয়েছে।
---
**উৎস:**
১. বাংলাদেশের সংবিধান, ১৯৭২ (সংশোধনীসহ)
২. জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, সরকারি কর্ম কমিশন সম্পর্কিত ওয়েবসাইট
৩. বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন আইন, ২০১৮