ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) তামা ও দস্তা
**সংকর ধাতু সম্পর্কিত ভূমিকা:**
সংকর ধাতু হলো দুই বা ততোধিক ধাতুর সমন্বয়ে গঠিত মিশ্রণ, যা সাধারণত বিশুদ্ধ ধাতুর তুলনায় অধিক শক্তিশালী, টেকসই ও বিশেষ ধর্ম প্রদর্শন করে। প্রকৌশল, নির্মাণ, ইলেকট্রনিক্সসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংকর ধাতুর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সরকারি চাকরির পরীক্ষায় সংকর ধাতুর উপাদান সম্পর্কিত প্রশ্ন প্রায়শই আসে।
**পিতল সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য:**
— পিতল হলো তামা (Copper) ও দস্তা (Zinc) এর একটি উল্লেখযোগ্য সংকর ধাতু।
— সাধারণত তামার পরিমাণ ৬০-৮০% এবং দস্তার পরিমাণ ২০-৪০% থাকে, তবে প্রয়োজন অনুযায়ী অনুপাত পরিবর্তিত হতে পারে।
— পিতলের রং স্বর্ণাভ থেকে হলুদাভ হয়ে থাকে, যা এর তামার পরিমাণের উপর নির্ভর করে।
— পিতলের বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে উচ্চ ঘর্ষণ প্রতিরোধ ক্ষমতা, সহজে গঠনযোগ্যতা, এবং জারা প্রতিরোধ ক্ষমতা।
— পিতল বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়, যেমন: মুদ্রা তৈরিতে, যন্ত্রাংশে, অলঙ্কার তৈরিতে, এবং সঙ্গীত যন্ত্রে (যেমন: ট্রাম্পেট, ট্রম্বোন)।
— প্রাচীনকাল থেকেই পিতল ব্যবহৃত হয়ে আসছে; রোমান সাম্রাজ্যে পিতলের মুদ্রা প্রচলিত ছিল।
— বাংলাদেশে পিতলের তৈরি বিভিন্ন হস্তশিল্প ও অলঙ্কার স্থানীয় শিল্পীদের দ্বারা তৈরি হয়, যা দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) তামা ও টিন: এটি ব্রোঞ্জ নামক সংকর ধাতুর উপাদান। ব্রোঞ্জ তামা ও টিনের মিশ্রণে গঠিত হয়, যা প্রাচীনকালে ব্যবহৃত হতো।
✗ গ) তামা ও নিকেল: এটি কপারনিকেল নামক সংকর ধাতুর উপাদান। এটি উচ্চ জারা প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য পরিচিত, যেমন মুদ্রা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
✗ ঘ) তামা ও সিসা: এটি সাধারণত ব্যবহৃত হয় না, কারণ সিসা বিষাক্ত এবং তামার সাথে মিশ্রিত করলে ধাতুর গুণগত মান হ্রাস পায়।
**উৎস:**
— "Introduction to Materials Science for Engineers" by James F. Shackelford (Pearson, 2015)
— "Metallurgy: Principles and Practice" by Reginald A. Higgins (McGraw-Hill, 2006)
— বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক প্রকাশিত ধাতুবিদ্যা বিষয়ক পাঠ্যপুস্তক