ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
‘সংস্কৃতির ভাঙা সেতু’ গ্রন্থটি বাংলাদেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতির ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ রচনা হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি মূলত পূর্ববাংলার সংস্কৃতির বিবর্তন ও পরিবর্তনের ধারা নিয়ে আলোচনা করে।
**আখতারুজ্জামান ইলিয়াস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— তিনি বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক ছিলেন। তার পুরো নাম আখতারুজ্জামান ইলিয়াস।
— তিনি ১৯৪৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের গৌড় গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।
— তার উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে উপন্যাস ‘চিলেকোঠার সেপাই’, ‘খোয়াবনামা’, গল্পগ্রন্থ ‘দুধভাতে উৎপাত’, প্রবন্ধগ্রন্থ ‘সংস্কৃতির ভাঙা সেতু’, ‘বাংলাদেশে উপন্যাসের ধারা’, ‘সংস্কৃতির ভাঙা সেতু’ প্রভৃতি।
— তিনি বাংলা সাহিত্যে আধুনিক উপন্যাসের ধারাকে সমৃদ্ধ করেছেন। তার লেখায় সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের জীবনযাত্রা, রাজনীতি, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের নানা দিক উঠে এসেছে।
— তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, স্বাধীনতা পুরস্কারসহ বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হন।
— তার লেখা ‘খোয়াবনামা’ উপন্যাসটি ইংরেজিসহ বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
— তিনি ১৯৯৭ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) মোতাহের হোসেন চৌধুরী: তিনি একজন বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক ছিলেন, তবে তার রচিত গ্রন্থের মধ্যে ‘সংস্কৃতির ভাঙা সেতু’ অন্তর্ভুক্ত নয়। তার বিখ্যাত গ্রন্থ হলো ‘সংস্কৃতির কথা’।
✗ খ) বিনয় ঘোষ: তিনি একজন ভারতীয় বাঙালি লেখক ছিলেন, যিনি মূলত ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ক গ্রন্থ রচনা করতেন। তার রচিত গ্রন্থের মধ্যে ‘সংস্কৃতির ভাঙা সেতু’ অন্তর্ভুক্ত নয়।
✗ ঘ) রাধারমণ মিত্র: তিনি একজন ভারতীয় বাঙালি লেখক ছিলেন, যিনি মূলত ধর্ম ও দর্শন বিষয়ক গ্রন্থ রচনা করতেন। তার রচিত গ্রন্থের মধ্যে ‘সংস্কৃতির ভাঙা সেতু’ অন্তর্ভুক্ত নয়।
উৎস:
— বাংলা একাডেমি প্রকাশিত ‘আখতারুজ্জামান ইলিয়াস স্মারকগ্রন্থ’।
— ‘সংস্কৃতির ভাঙা সেতু’ গ্রন্থের ভূমিকা ও প্রাসঙ্গিক তথ্য।
— বাংলাদেশ জাতীয় জ্ঞানকোষ (বাংলাপিডিয়া)।