ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাধা
**স্ট্রোক সম্পর্কিত ভূমিকা:**
স্ট্রোক হলো একটি জরুরি চিকিৎসা অবস্থা যেখানে মস্তিষ্কের কিছু অংশে হঠাৎ রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় বা রক্তক্ষরণ হয়। এটি বিশ্বব্যাপী মৃত্যু ও অক্ষমতার অন্যতম প্রধান কারণ। বাংলাদেশেও স্ট্রোক একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে বিবেচিত।
**স্ট্রোক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **সংজ্ঞা:** স্ট্রোক হলো মস্তিষ্কের টিস্যুতে রক্ত সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটা, যার ফলে মস্তিষ্কের কোষগুলো অক্সিজেন ও পুষ্টির অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা মারা যায়।
— **প্রকারভেদ:**
— **ইস্কেমিক স্ট্রোক (Ischemic Stroke):** মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়া (প্রায় ৮৭% ক্ষেত্রে)। এটি সাধারণত রক্ত জমাট বাঁধার কারণে ঘটে।
— **হেমোরেজিক স্ট্রোক (Hemorrhagic Stroke):** মস্তিষ্কের কোনো রক্তনালী ফেটে গিয়ে রক্তক্ষরণ হওয়া। এটি উচ্চ রক্তচাপ বা রক্তনালীর দুর্বলতার কারণে ঘটে।
— **কারণসমূহ:**
— উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপান, অতিরিক্ত ওজন, উচ্চ কোলেস্টেরল, অনিয়ন্ত্রিত হৃদরোগ।
— পারিবারিক ইতিহাস, বয়স বৃদ্ধি, অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন।
— **লক্ষণসমূহ:**
— হঠাৎ মুখ, হাত বা পায়ের দুর্বলতা বা অসাড়তা (বিশেষত একদিকে)।
— কথা বলতে অসুবিধা বা বুঝতে না পারা।
— হঠাৎ দৃষ্টি সমস্যা (এক বা উভয় চোখে)。
— হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব বা মাথা ঘোরা।
— ভারসাম্য হারানো বা হাঁটতে অসুবিধা।
— **প্রতিকারের সময়কাল:** স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দেওয়ার প্রথম ৩-৪.৫ ঘণ্টাকে "গোল্ডেন আওয়ার" বলা হয়। এই সময়ের মধ্যে চিকিৎসা শুরু করা হলে ক্ষতির পরিমাণ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
— **প্রতিরোধ:**
— স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস (ফল, শাকসবজি, কম চর্বিযুক্ত খাবার)।
— নিয়মিত ব্যায়াম ও শরীরচর্চা।
— ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার।
— নিয়মিত রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল পরীক্ষা।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ **ক) হৃৎপিণ্ডের সজোরে সংকোচন বা বন্ধ হয়ে যাওয়া:** এটি হার্ট অ্যাটাকের সাথে সম্পর্কিত, স্ট্রোক নয়। হার্ট অ্যাটাক হলে হৃৎপিণ্ডের পেশিতে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, ফলে হৃৎপিণ্ডের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
✗ **গ) হৃৎপিণ্ডের অংশবিশেষের অসাড়তা:** এটি হার্ট অ্যাটাক বা কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের সাথে সম্পর্কিত নয়। স্ট্রোকের সাথে হৃৎপিণ্ডের কোনো সম্পর্ক নেই।
✗ **ঘ) ফু