ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্প
সুনামী সম্পর্কিত ভূমিকা:
সুনামী একটি জাপানি শব্দ যার অর্থ "বন্দরের ঢেউ"। এটি সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্প, ভূমিধস বা আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের ফলে সৃষ্ট বিশালাকার ঢেউ যা উপকূলীয় অঞ্চলে বিধ্বংসী প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সুনামীর ঘটনা বেশি দেখা যায়।
**সুনামী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **সুনামীর প্রধান কারণ:** সমুদ্রের তলদেশে শক্তিশালী ভূমিকম্প (প্রায় ৬.৫ মাত্রার বেশি) হলো সুনামীর প্রধান কারণ। ভূমিকম্পের ফলে সমুদ্রতলের হঠাৎ উল্লম্ব স্থানচ্যুতি ঘটে, যা বিশাল জলরাশিকে উপরের দিকে ঠেলে দেয় এবং সুনামীর সৃষ্টি হয়।
— **অন্যান্য কারণসমূহ:**
— সমুদ্রের তলদেশে ভূমিধস (যেমন: হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের কাছে দেখা যায়)।
— আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত (যেমন: ১৮৮৩ সালে ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের ফলে সৃষ্ট সুনামী)।
— উল্কাপাত বা অন্যান্য মহাজাগতিক ঘটনা (খুব বিরল)।
— **সুনামীর বৈশিষ্ট্য:**
— সুনামীর ঢেউ সমুদ্রের গভীর অংশে খুব দ্রুত (ঘণ্টায় ৫০০-৮০০ কিমি) প্রবাহিত হয়, কিন্তু উপকূলের কাছে এসে ধীর হয়ে যায় এবং উচ্চতা বৃদ্ধি পায়।
— একটি সুনামীতে একাধিক ঢেউ থাকে, যার মধ্যে প্রথম ঢেউ সবচেয়ে ক্ষতিকর নয়।
— **বাংলাদেশে সুনামীর ঝুঁকি:**
— বাংলাদেশ ভারত মহাসাগরের উপকূলীয় অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় সুনামীর ঝুঁকি কম হলেও সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়।
— ২০০৪ সালের ভারত মহাসাগরের সুনামীর প্রভাব বাংলাদেশেও অনুভূত হয়েছিল।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ **ক) আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত:** আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত সুনামীর কারণ হতে পারে, তবে এটি প্রধান কারণ নয়। অধিকাংশ সুনামীর কারণ ভূমিকম্প।
✗ **খ) ঘূর্ণীঝড়:** ঘূর্ণীঝড় সমুদ্রে বিশাল ঢেউ সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু তা সুনামী নয়। সুনামী ভূমিকম্প বা ভূমিধসের ফলে সৃষ্টি হয়।
✗ **গ) চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ:** চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ জোয়ার-ভাটা সৃষ্টি করে, কিন্তু সুনামীর কারণ নয়।
**উৎস:**
— *National Oceanic and Atmospheric Administration (NOAA) – Tsunami Information*
— *United Nations Office for Disaster Risk Reduction (UNDRR) – Tsunami Facts*
— *বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর – সুনামী সম্পর্কিত তথ্য*