ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্প
সুনামি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা:
সুনামি হলো এক ধরনের বিশালাকৃতির সামুদ্রিক ঢেউ, যা সাধারণত সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত বা ভূমিধসের কারণে সৃষ্টি হয়। এই ঢেউগুলো উপকূলীয় অঞ্চলে প্রচণ্ড শক্তি নিয়ে আছড়ে পড়ে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সৃষ্টি করতে পারে।
সুনামির কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্প: সুনামির প্রধান কারণ হলো সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্প। যখন ভূমিকম্পের ফলে সমুদ্রের তলদেশের ভূত্বক হঠাৎ করে উপরের দিকে উঠে যায় বা নিচের দিকে নেমে যায়, তখন বিশাল পরিমাণ পানি স্থানচ্যুত হয়। এই স্থানচ্যুত পানি বিশাল ঢেউ হিসেবে উপকূলের দিকে ধেয়ে যায়, যা সুনামি নামে পরিচিত।
— আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত: আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের ফলে সমুদ্রের তলদেশে হঠাৎ করে বিশাল শক্তির সৃষ্টি হয়, যা পানির স্থানচ্যুতি ঘটায়। তবে এটি তুলনামূলকভাবে বিরল কারণ।
— ভূমিধস: সমুদ্রের তলদেশে বা উপকূলীয় অঞ্চলে ভূমিধসের ফলে পানির স্থানচ্যুতি ঘটতে পারে, যা সুনামির কারণ হতে পারে। তবে এটি খুবই বিরল ঘটনা।
— চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ: চন্দ্র ও সূর্যের মহাকর্ষীয় বলের কারণে জোয়ার-ভাটা সৃষ্টি হয়, তবে এটি সুনামির কারণ নয়। জোয়ার-ভাটা নিয়মিত এবং ধীর প্রক্রিয়া, যা সুনামির মতো বিধ্বংসী ঘটনা ঘটাতে পারে না।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ ক) আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত: যদিও আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের ফলে সুনামি হতে পারে, এটি প্রধান কারণ নয়। অধিকাংশ সুনামির কারণ ভূমিকম্প।
✗ খ) ঘূর্ণীঝড়: ঘূর্ণীঝড় সমুদ্রে বিশাল ঢেউ সৃষ্টি করতে পারে, তবে এটি সুনামি নয়। ঘূর্ণীঝড়ের ফলে সৃষ্ট ঢেউগুলো স্থানীয় এবং স্বল্পস্থায়ী হয়, যেখানে সুনামি বিশাল এলাকা জুড়ে বিধ্বংসী প্রভাব ফেলে।
✗ গ) চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ: চন্দ্র ও সূর্যের মহাকর্ষীয় বল জোয়ার-ভাটা সৃষ্টি করে, কিন্তু এটি সুনামির কারণ নয়। সুনামি ভূমিকম্প বা অন্যান্য ভূতাত্ত্বিক কারণে সৃষ্টি হয়।
উৎস:
— ভূতত্ত্ব ও সমুদ্রবিদ্যা বিষয়ক বিভিন্ন পাঠ্যপুস্তক (যেমন: ভূতত্ত্ব পরিচিতি, সমুদ্র বিজ্ঞান)
— বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য সামগ্রী
— আন্তর্জাতিক দুর্যোগ গবেষণা কেন্দ্রের প্রতিবেদন