ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া
**ভূমিকা:**
বিশ্ব রাজনীতিতে বিভিন্ন দেশের মধ্যে বিরোধ নিরসন ও সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন নীতি গ্রহণ করা হয়। তেমনি একটি উল্লেখযোগ্য নীতি হলো "Sunshine Policy"। এটি মূলত উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য দক্ষিণ কোরিয়া সরকার কর্তৃক গৃহীত একটি উদারনীতি।
**Sunshine Policy সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **উদ্ভাবন ও প্রবর্তন:** Sunshine Policy (সূর্যালোক নীতি) প্রবর্তন করেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি **কিম দায়ে-জাং** (Kim Dae-jung)। তিনি ১৯৯৮ সালে এই নীতি ঘোষণা করেন এবং ২০০০ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
— **উদ্দেশ্য:** এই নীতির মূল উদ্দেশ্য ছিল উত্তর কোরিয়ার সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন, পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।
— **বাস্তবায়ন:** এই নীতির অধীনে দক্ষিণ কোরিয়া উত্তর কোরিয়াকে মানবিক সহায়তা প্রদান, অর্থনৈতিক সাহায্য এবং সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের মাধ্যমে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করে।
— **ফলাফল:** এই নীতির ফলে ২০০০ সালে প্রথম আন্তঃকোরীয় শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার নেতারা একত্রিত হন। তবে পরবর্তীতে এই নীতির প্রভাব কমে যায় এবং সম্পর্ক পুনরায় খারাপ হতে থাকে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ **ক) চীন, রাশিয়া:** চীন ও রাশিয়া কোরীয় উপদ্বীপের সাথে সরাসরি জড়িত নয়। তাদের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য আলাদা নীতি রয়েছে।
✗ **গ) জাপান, থাইল্যান্ড:** জাপান ও থাইল্যান্ড দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ, যারা কোরীয় উপদ্বীপের সাথে সরাসরি জড়িত নয়।
✗ **ঘ) তাইওয়ান, হংকং:** তাইওয়ান ও হংকং চীনের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং তাদের সাথে কোরীয় উপদ্বীপের সরাসরি সম্পর্ক নেই।
**উৎস:**
— Kim Dae-jung-এর জীবনী ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কিত বই।
— আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক বিভিন্ন গবেষণা প্রবন্ধ।
— দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি নথিপত্র ও পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষণ।