ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) বিশ্বব্যাংক
সুশাসন সম্পর্কে বিশ্বব্যাংকের ধারণা
বিশ্বব্যাংক সুশাসনকে একটি দেশের উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করে। বিশ্বব্যাংক তাদের বিভিন্ন গবেষণা ও প্রতিবেদনে সুশাসনকে চারটি স্তম্ভের উপর নির্ভরশীল বলে উল্লেখ করেছে। এই চারটি স্তম্ভ হলো:
— **জবাবদিহিতা (Accountability)**
— **পারদর্শিতা (Transparency)**
— **ন্যায়বিচার (Justice)**
— **সহনশীলতা (Inclusiveness)**
এই চারটি স্তম্ভের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় বলে বিশ্বব্যাংক মত প্রকাশ করেছে। বিশ্বব্যাংকের মতে, সুশাসনের মাধ্যমে একটি দেশে দুর্নীতি হ্রাস, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।
বিশ্বব্যাংক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— বিশ্বব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৪৪ সালে ব্রেটন উডস চুক্তির মাধ্যমে। এর সদর দপ্তর ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত।
— বিশ্বব্যাংক মূলত উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ঋণ, অনুদান এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করে।
— বিশ্বব্যাংক গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:
— আন্তর্জাতিক পুনর্গঠন ও উন্নয়ন ব্যাংক (IBRD)
— আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (IDA)
— আন্তর্জাতিক অর্থসংস্থান কর্পোরেশন (IFC)
— বহুপক্ষীয় বিনিয়োগ গ্যারান্টি সংস্থা (MIGA)
— আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বিরোধ নিষ্পত্তি কেন্দ্র (ICSID)
— বিশ্বব্যাংক তাদের বিভিন্ন প্রতিবেদনে সুশাসনের গুরুত্ব তুলে ধরে। উদাহরণস্বরূপ, "Governance and Development" (১৯৯২) এবং "World Development Report" (২০০০-২০০১) উল্লেখযোগ্য।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ ক) জাতিসংঘ: জাতিসংঘ সুশাসন সম্পর্কে বিভিন্ন ঘোষণা ও সনদ প্রকাশ করেছে, তবে চারটি স্তম্ভের ধারণাটি বিশ্বব্যাংকের।
✗ খ) জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP): UNDP সুশাসন সম্পর্কে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, কিন্তু চারটি স্তম্ভের ধারণাটি বিশ্বব্যাংকের।
✗ ঘ) এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক: এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংকও সুশাসন সম্পর্কে মত প্রকাশ করেছে, তবে চারটি স্তম্ভের ধারণাটি বিশ্বব্যাংকের।
উৎস:
— বিশ্বব্যাংক, "Governance and Development" (১৯৯২)
— বিশ্বব্যাংক, "World Development Report 2000/2001: Attacking Poverty"
— UNDP, "Governance for Sustainable Human Development" (১৯৯৭)
— জাতিসংঘ, "The Millennium Declaration" (২০০০)