ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলে
সুশাসন হলো এমন একটি শাসন ব্যবস্থা যেখানে সরকার ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত হয়। এই ব্যবস্থায় জনগণ সরকারের উপর আস্থা রাখে এবং সরকার জনগণের কল্যাণে কাজ করে।
**সুশাসন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো *Good Governance*। জাতিসংঘ ও বিশ্বব্যাংকের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সুশাসনকে শাসন ব্যবস্থার একটি আদর্শ মডেল হিসেবে বিবেচনা করে।
— সুশাসনের মূল স্তম্ভগুলো হলো: স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, অংশগ্রহণ, আইনের শাসন, কার্যকারিতা ও দক্ষতা, এবং সামাজিক ন্যায়বিচার।
— সুশাসনের মাধ্যমে সরকার ও জনগণের মধ্যে একটি শক্তিশালী আস্থার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কারণ জনগণ সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারে এবং সরকার তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করতে পারে।
— সুশাসন ব্যবস্থায় দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং জনগণের অধিকার রক্ষা করা হয়। ফলে সরকার ও জনগণের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি পায়।
— সুশাসনের অভাবে সরকার ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়, যার ফলে সরকারের বৈধতা হ্রাস পায় এবং জনগণের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) সুসম্পর্ক গড়ে তোলে: সুশাসনের মাধ্যমে সরকার ও জনগণের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে, তবে এটি প্রধান লক্ষ্য নয়। প্রধান লক্ষ্য হলো আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলা।
✗ গ) শান্তির সম্পর্ক গড়ে তোলে: সুশাসন শান্তির পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হতে পারে, তবে এটি সরাসরি শান্তির সম্পর্ক গড়ে তোলা নয়। শান্তির সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় অন্যান্য উপাদান যেমন আইনের শাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার ইত্যাদির ভূমিকা রয়েছে।
✗ ঘ) কোনোটিই নয়: সুশাসনের মূল লক্ষ্য হলো সরকার ও জনগণের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলা। তাই এই অপশনটি সম্পূর্ণ ভুল।
**উৎস:**
- বিশ্বব্যাংক, "Governance and Development" (1992)
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP), "Governance for Sustainable Human Development" (1997)
- বাংলাদেশ সরকারের সুশাসন কর্মপরিকল্পনা (২০১২-২০২৩)