ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) স্বজনপ্রীতি
সুশাসনের ধারণা সরকারি প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে কার্যকর শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। এটি একটি বহুমাত্রিক ধারণা যা আইনের শাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে।
**স্বজনপ্রীতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— স্বজনপ্রীতি হলো এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে সরকারি প্রতিষ্ঠান বা প্রশাসনে নিয়োগ, পদোন্নতি বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও দক্ষতার পরিবর্তে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, পরিবার বা গোষ্ঠীর প্রভাবকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।
— এটি সুশাসনের মূলনীতি যেমন আইনের শাসন, ন্যায়পরায়ণতা এবং জবাবদিহিতার পরিপন্থী।
— স্বজনপ্রীতির ফলে প্রশাসনে অদক্ষ ব্যক্তিদের প্রবেশ ঘটে, যা প্রশাসনিক দক্ষতা হ্রাস করে এবং দুর্নীতির সুযোগ বৃদ্ধি করে।
— এটি সামাজিক বৈষম্য ও অবিচারের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, কারণ যোগ্য ব্যক্তিরা সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।
— স্বজনপ্রীতি জনগণের আস্থা হ্রাস করে এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি অনাস্থা সৃষ্টি করে।
**আইনের শাসন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— আইনের শাসন হলো এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে আইন সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব হিসেবে বিবেচিত হয় এবং সবাই আইনের সমান অধীন।
— এটি সুশাসনের একটি মৌলিক স্তম্ভ, কারণ এটি নিশ্চিত করে যে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
— আইনের শাসন দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক এবং প্রশাসনের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করে।
**জবাবদিহিতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— জবাবদিহিতা হলো এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে সরকারি কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য জনগণ বা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দায়বদ্ধ থাকে।
— এটি সুশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, কারণ এটি নিশ্চিত করে যে প্রশাসন জনগণের কল্যাণের জন্য কাজ করছে।
— জবাবদিহিতা দুর্নীতি প্রতিরোধে সহায়ক এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি করে।
**ন্যায়পরায়ণতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— ন্যায়পরায়ণতা হলো এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে সবার প্রতি সমান আচরণ করা হয় এবং আইনের প্রয়োগে কোনো বৈষম্য থাকে না।
— এটি সুশাসনের একটি মৌলিক নীতি, কারণ এটি সামাজিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক।
— ন্যায়পরায়ণতা প্রশাসনের প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি করে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) আইনের শাসন: আইনের শাসন সুশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। এটি সুশাসনের পথে অন্তরায় নয়, বরং এটি সুশাসনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
✗ খ) জবাবদিহিতা: জবাবদিহিতা সুশাসনের একটি মৌলিক উপাদান। এটি প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করে, তাই এটি অন্তরায় নয়।
✗ ঘ) ন্যায়পরায়ণতা: ন্যায়পরায়ণতা সুশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি। এটি সামাজিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়