ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন
সুশাসনের পূর্বশর্ত হিসেবে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের গুরুত্ব সম্পর্কিত ধারণা।
সুশাসন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— সুশাসন হলো এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে সরকার জনগণের কল্যাণের জন্য দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলকভাবে কাজ করে। এটি আইনের শাসন, অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ, মানবাধিকার রক্ষা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের উপর প্রতিষ্ঠিত।
— সুশাসনের মূল স্তম্ভগুলো হলো: স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, অংশগ্রহণ, আইনের শাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং দক্ষ প্রশাসনিক ব্যবস্থা।
— সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন অপরিহার্য। কারণ অর্থনৈতিক উন্নয়ন ছাড়া সরকার জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারে না, আর সামাজিক উন্নয়ন ছাড়া জনগণের অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়ন সম্ভব নয়।
— জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) সুশাসনকে টেকসই উন্নয়নের পূর্বশর্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছে। কারণ সুশাসন ছাড়া কোনো দেশে দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন সম্ভব নয়।
— বিশ্বব্যাংকও সুশাসনকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হিসেবে বিবেচনা করে। তাদের মতে, দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ প্রশাসনিক ব্যবস্থা ব্যতীত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব নয়।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ ক) অর্থনৈতিক উন্নয়ন: অর্থনৈতিক উন্নয়ন সুশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও এটি একমাত্র পূর্বশর্ত নয়। সামাজিক উন্নয়ন ব্যতীত অর্থনৈতিক উন্নয়ন টেকসই হয় না।
✗ গ) সামাজিক উন্নয়ন: সামাজিক উন্নয়নও সুশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলেও এককভাবে এটি যথেষ্ট নয়। অর্থনৈতিক উন্নয়ন ব্যতীত সামাজিক উন্নয়নও সম্ভব নয়।
✗ ঘ) সবগুলোই: অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন আলাদাভাবে যথেষ্ট নয়। উভয় ক্ষেত্রেই উন্নয়ন ঘটলে তবেই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
উৎস:
— UNDP, "Governance for Sustainable Human Development" (1997)
— বিশ্বব্যাংক, "Governance and Development" (1992)
— জাতিসংঘ, "Sustainable Development Goals (SDGs)"