ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) ৪ : ১ : ১
সুষম খাদ্য সম্পর্কিত সরকারি চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই আসা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো সুষম খাদ্যে প্রধান তিনটি উপাদান শর্করা, আমিষ ও চর্বিজাতীয় খাদ্যের অনুপাত। মানবদেহের সুস্থতা ও কর্মক্ষমতার জন্য সুষম খাদ্যের ভূমিকা অপরিহার্য।
**সুষম খাদ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— সুষম খাদ্য বলতে সেই খাদ্যকে বোঝায় যা দেহের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানগুলোর সঠিক অনুপাতে সরবরাহ করে। প্রধান তিনটি উপাদান হলো শর্করা (কার্বোহাইড্রেট), আমিষ (প্রোটিন) ও চর্বি (ফ্যাট)।
— শর্করা প্রধান শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে। দেহের প্রায় ৫০-৬০% শক্তি আসে শর্করা থেকে।
— আমিষ দেহের টিস্যু গঠন ও মেরামতের জন্য অপরিহার্য। দেহের প্রায় ১০-১৫% শক্তি আসে আমিষ থেকে।
— চর্বি দেহের শক্তির একটি ঘনীভূত উৎস এবং ভিটামিন শোষণে সাহায্য করে। দেহের প্রায় ২৫-৩০% শক্তি আসে চর্বি থেকে।
— বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং বাংলাদেশের জাতীয় পুষ্টি পরিষদ সুষম খাদ্যের জন্য শর্করা, আমিষ ও চর্বির অনুপাত ৪:১:১ নির্ধারণ করেছে।
— শর্করা ও চর্বির অতিরিক্ত গ্রহণ স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে, যেমন ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ইত্যাদি।
— আমিষের অভাব হলে দেহের বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ খ) ৪ : ২ : ২: এই অনুপাতটি সুষম খাদ্যের জন্য নির্ধারিত নয়। আমিষ ও চর্বির পরিমাণ বেশি দেখানো হয়েছে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
✗ গ) ৪ : ২ : ৩: এই অনুপাতটি অত্যধিক চর্বির পরিমাণ নির্দেশ করে, যা সুষম খাদ্যের জন্য উপযুক্ত নয়।
✗ ঘ) ৪ : ৩ : ২: এই অনুপাতটিতে আমিষের পরিমাণ বেশি দেখানো হয়েছে, যা সাধারণ সুষম খাদ্যের জন্য নির্ধারিত নয়।
উৎস:
— বাংলাদেশ জাতীয় পুষ্টি পরিষদ, সুষম খাদ্যের নির্দেশিকা (২০২০)
— বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), সুষম খাদ্যের মানদণ্ড (২০১৮)
— প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ্যপুস্তক (পুষ্টি ও স্বাস্থ্য অধ্যায়)