ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) গিরিশচন্দ্র সেন
‘তাজকেরাতুল আওলিয়া’ অবলম্বনে ‘তাপসমালা’ রচনার প্রেক্ষাপট সম্পর্কিত ভূমিকা:
বাংলা সাহিত্যে ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক গ্রন্থ অনুবাদ ও রচনার ক্ষেত্রে গিরিশচন্দ্র সেনের অবদান অনস্বীকার্য। তিনি ইসলাম ধর্ম সম্পর্কিত বিভিন্ন গ্রন্থ বাংলায় অনুবাদ ও সম্পাদনার মাধ্যমে মুসলিম সমাজে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। তার অন্যতম উল্লেখযোগ্য কর্ম হলো ‘তাজকেরাতুল আওলিয়া’ গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ ‘তাপসমালা’। এই গ্রন্থটি ইসলামের প্রখ্যাত সুফি সাধকদের জীবনী নিয়ে রচিত, যা বাংলা সাহিত্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
**গিরিশচন্দ্র সেন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— গিরিশচন্দ্র সেন (১৮৩৫–১৯১০) ছিলেন একজন বাঙালি লেখক, অনুবাদক ও ধর্মপ্রচারক। তিনি মূলত ইসলাম ধর্ম সম্পর্কিত গ্রন্থ অনুবাদ ও সম্পাদনার জন্য বিখ্যাত।
— তিনি ১৮৮৬ সালে ‘তাজকেরাতুল আওলিয়া’ গ্রন্থটি বাংলায় অনুবাদ করেন এবং এর নাম দেন ‘তাপসমালা’। এই গ্রন্থে ইসলামের সুফি সাধকদের জীবনী বর্ণিত হয়েছে।
— গিরিশচন্দ্র সেন বাংলা সাহিত্যে ইসলামি ধর্মগ্রন্থ অনুবাদের পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত। তার অনুবাদ কর্মের মাধ্যমে মুসলিম সমাজে বাংলা ভাষার প্রচার ও প্রসার ঘটে।
— তিনি ‘মহাপুরুষচরিত’, ‘হজরত মহম্মদ’, ‘হজরত আলী’ প্রভৃতি গ্রন্থও অনুবাদ ও সম্পাদনা করেন।
— তার লেখা অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘বিবি খোদেজা’, ‘মহাপুরুষচরিত’, ‘মহানবী চরিত’ ইত্যাদি।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ মুন্সী আবদুল লতিফ: তিনি ছিলেন একজন মুসলিম শিক্ষাবিদ ও লেখক, কিন্তু ‘তাপসমালা’ রচনা করেননি। তার উল্লেখযোগ্য কর্ম হলো ‘বাংলা সাহিত্যে মুসলমানদের অবদান’।
✗ কাজী আকরাম হোসেন: তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত কবি ও সাহিত্যিক, কিন্তু ‘তাপসমালা’ রচনার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।
✗ শেখ আব্দুল জব্বার: তিনি ছিলেন একজন ইসলামি পণ্ডিত ও লেখক, কিন্তু ‘তাপসমালা’ রচনা করেননি। তার উল্লেখযোগ্য কর্ম হলো ‘ইসলামের ইতিহাস’।
উৎস:
— ‘বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস’ (ড. মুহম্মদ আবদুল হাই ও আনিসুজ্জামান)
— ‘গিরিশচন্দ্র সেন: জীবন ও কর্ম’ (ড. আবুল কালাম মনজুর মোরশেদ)
— ‘ইসলামি সাহিত্য ও বাংলা অনুবাদ সাহিত্য’ (ড. সৈয়দ আলী আহসান)