ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) ঠোঁটের পরশে পান লাল হল
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একটি বিখ্যাত পদ বা চরণ হিসেবে "তাম্বুল রাতুল হইল অধর পরশে" ব্যাপক পরিচিত। এই পদটি মূলত প্রেম ও বিরহের অনুভূতিকে সুন্দরভাবে প্রকাশ করেছে।
"তাম্বুল রাতুল হইল অধর পরশে" সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— পদটির অর্থ হলো: "পানের স্পর্শে ঠোঁট লাল হয়ে গেল।"
— এখানে "তাম্বুল" অর্থ পান, "রাতুল" অর্থ লাল, "অধর" অর্থ ঠোঁট, এবং "পরশে" অর্থ স্পর্শ।
— পদটির মাধ্যমে প্রেমিক-প্রেমিকার বিরহের সময়ে প্রেমিকার ঠোঁটের লালিমা পানের কারণে আরও গাঢ় হয়ে উঠেছে বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
— পদটি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ, যেখানে প্রেমের অনুভূতি অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে প্রকাশিত হয়েছে।
— পদটি চর্যাপদ নামক প্রাচীন বাংলা কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ খ) পানের পরশে ঠোঁট লাল হল: এই অপশনটি অর্থগতভাবে সঠিক হলেও পদটির প্রচলিত ব্যাখ্যা অনুযায়ী এটি সঠিক নয়। পদটির মূল অর্থ হলো পানের স্পর্শে ঠোঁট লাল হয়ে গেছে, অর্থাৎ ঠোঁটের পরশে পান লাল হয়েছে।
✗ গ) অস্তাচলগামী সূর্যের আভায় মুখ রক্তিম দেখা গেল: এই অপশনটি পদটির মূল অর্থের সাথে সম্পূর্ণ অসঙ্গতিপূর্ণ। পদটির সাথে সূর্যাস্তের কোনো সম্পর্ক নেই।
✗ ঘ) অস্তাচলগামী সূর্য ও মুখ একই রকম লাল হয়ে গেল: এই অপশনটিও পদটির মূল অর্থের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ। পদটির মূল বিষয়বস্তু হলো পানের স্পর্শে ঠোঁটের লালিমা বৃদ্ধি পাওয়া।
উৎস:
— চর্যাপদ (প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন)
— বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ)
— বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাস (ড. দেবেশ কুমার আচার্য)