ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) আলালের ঘরে দুলাল
বাংলা সাহিত্যের প্রেক্ষাপটে বিদ্যাসাগর পরবর্তী যুগে সমাজ সংস্কার ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের ধারায় যেসব উপন্যাস রচিত হয়েছে, তার মধ্যে ‘আলালের ঘরে দুলাল’ অন্যতম। ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে বাংলা সাহিত্যে সামাজিক উপন্যাসের ধারা প্রসারে এই গ্রন্থটির গুরুত্ব অপরিসীম।
‘আলালের ঘরে দুলাল’ উপন্যাস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— এই উপন্যাসটি রচনা করেন প্যারীচাঁদ মিত্র (১৮১৪–১৮৮৩), যিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস রচয়িতা হিসেবে পরিচিত।
— প্রকাশকাল: ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে (বাংলা ১২৬৫ সন)।
— উপন্যাসটির মূল বিষয়বস্তু হলো তৎকালীন বাংলা সমাজের নকলনবিশি, হুজুগে প্রবণতা ও সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে ব্যঙ্গাত্মক উপস্থাপনা।
— ‘আলাল’ শব্দটি তৎকালীন কলকাতার উচ্চবিত্ত শ্রেণির অপভ্রংশ বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি তাদের অবজ্ঞার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
— উপন্যাসের প্রধান চরিত্র ‘ঠকচাচা’ হলেন একজন ধূর্ত ও প্রতারণাপরায়ণ ব্যক্তি, যিনি সমাজের উচ্চবিত্ত শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি বিভিন্নভাবে সাধারণ মানুষকে ঠকানোর চেষ্টা করেন।
— ‘ঠকচাচা’ চরিত্রটি সমাজের প্রতারণাপূর্ণ মনোভাব ও সামাজিক অসততার বিরুদ্ধে ব্যঙ্গাত্মক প্রতীক হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
— উপন্যাসটির ভাষা অত্যন্ত সরল ও ব্যঙ্গাত্মক, যা তৎকালীন সমাজের বিভিন্ন অসঙ্গতিকে তুলে ধরেছে।
— এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ব্যঙ্গাত্মক উপন্যাস হিসেবে বিবেচিত হয়।
— উপন্যাসটির মাধ্যমে লেখক সমাজ সংস্কারের পাশাপাশি ভাষা সংস্কারের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেছেন।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ ক) হুতোম প্যাঁচার নক্সা: এটি কালীপ্রসন্ন সিংহ রচিত ব্যঙ্গাত্মক গ্রন্থ, যেখানে সমাজের বিভিন্ন অসঙ্গতি তুলে ধরা হয়েছে। তবে ‘ঠকচাচা’ চরিত্রটি এখানে উপস্থিত নয়।
✗ গ) সধবার একাদশী: এটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাস, যেখানে সমাজের ধর্মীয় কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লেখা হয়েছে। ‘ঠকচাচা’ চরিত্র এখানে নেই।
✗ ঘ) বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ: এটি রাজশেখর বসু রচিত একটি ব্যঙ্গাত্মক রচনা, যেখানে সমাজের বিভিন্ন অসঙ্গতি তুলে ধরা হয়েছে। তবে ‘ঠকচাচা’ চরিত্রটি এখানে উপস্থিত নয়।
উৎস:
— বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
— বাংলা উপন্যাসের ইতিহাস, আবুল আহসান চৌধুরী
— প্যারীচাঁদ মিত্রের রচনাবলী, সাহিত্য অকাদেমি প্রকাশিত সংকলন