ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) সাধু রীতি
‘তৎসম’ শব্দের ব্যবহার বাংলা ভাষার কোন রীতিতে বেশি হয় তা নির্ধারণ করার আগে বাংলা ভাষার রীতিগুলোর মৌলিক পার্থক্য সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রয়োজন।
**‘তৎসম’ শব্দ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— ‘তৎসম’ শব্দ বলতে সেই সব শব্দকে বোঝায় যেগুলো সংস্কৃত ভাষা থেকে অবিকৃতভাবে বাংলা ভাষায় গৃহীত হয়েছে। অর্থাৎ, সংস্কৃত শব্দের উচ্চারণ ও বানান পরিবর্তন না করেই বাংলায় ব্যবহৃত হয়।
— উদাহরণ: ধর্ম, কর্ম, মনুষ্য, রাজা, বিদ্যা, জ্ঞান ইত্যাদি।
— তৎসম শব্দগুলো সাধারণত সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসারে গঠিত হয় এবং এদের প্রত্যয়, উপসর্গ ও সমাসবদ্ধ রূপ সংস্কৃত নিয়ম অনুসারে হয়ে থাকে।
— তৎসম শব্দগুলো বাংলা ভাষার শব্দভাণ্ডারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং এদের ব্যবহার সাহিত্যিক ও আনুষ্ঠানিক লেখায় বেশি দেখা যায়।
**বাংলা ভাষার রীতিগুলোর পার্থক্য:**
— **সাধু রীতি:** এই রীতি সংস্কৃত ভাষার কাছাকাছি এবং তৎসম শব্দের ব্যবহার এখানে বেশি। সাধু রীতিতে ব্যাকরণগতভাবে শুদ্ধ ও সংস্কৃতানুগ শব্দের প্রাধান্য থাকে। উদাহরণ: "তিনি বিদ্যালাভ করিয়াছেন।"
— **চলিত রীতি:** এই রীতি সাধারণ মানুষের মুখের ভাষার কাছাকাছি এবং তদ্ভব ও দেশি শব্দের ব্যবহার বেশি। উদাহরণ: "সে পড়াশোনা করেছে।"
— **মিশ্র রীতি:** এই রীতিতে সাধু ও চলিত উভয়ের মিশ্রণ দেখা যায়, তবে এটি আনুষ্ঠানিক লেখায় কম ব্যবহৃত হয়।
— **আঞ্চলিক রীতি:** এটি বিভিন্ন অঞ্চলের স্থানীয় ভাষার বৈশিষ্ট্য বহন করে এবং তৎসম শব্দের ব্যবহার এখানে খুবই কম।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) চলিত রীতি: চলিত রীতিতে তৎসম শব্দের পরিবর্তে তদ্ভব ও দেশি শব্দের ব্যবহার বেশি হয়। উদাহরণস্বরূপ, "বিদ্যা" শব্দটির পরিবর্তে "পড়াশোনা" শব্দটি ব্যবহৃত হয়।
✗ গ) মিশ্র রীতি: মিশ্র রীতিতে সাধু ও চলিত উভয়ের মিশ্রণ থাকে, তবে তৎসম শব্দের ব্যবহার এখানে প্রধান নয়।
✗ ঘ) আঞ্চলিক রীতি: আঞ্চলিক রীতিতে স্থানীয় ভাষার প্রভাব বেশি থাকে এবং তৎসম শব্দের ব্যবহার খুবই কম।
উৎস:
— বাংলা একাডেমি ব্যবহারিক বাংলা অভিধান (২০১৬ সংস্করণ)
— বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও রীতি (ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ)
— মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (বোর্ড বই)