ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) ১৫ তম সংশোধনী
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। স্বাধীনতার পর থেকে দেশে নির্বাচন পরিচালনার জন্য বিভিন্ন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু ছিল। এই ব্যবস্থা সংবিধানের মাধ্যমে স্বীকৃত ছিল, তবে পরবর্তীতে রাজনৈতিক ও আইনি জটিলতার কারণে তা পরিবর্তন করা হয়।
**তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— বাংলাদেশের সংবিধানের **১৩তম সংশোধনী (১৯৯৬)** এর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রথমবারের মতো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
— এই ব্যবস্থা অনুসারে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্ববর্তী সময়ে একটি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হতো, যা নির্বাচন পরিচালনা করতো।
— ১৯৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনে এই ব্যবস্থা প্রথম প্রয়োগ করা হয় এবং পরবর্তীতে ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনেও এটি অনুসৃত হয়।
— **১৫তম সংশোধনী (২০১১)** এর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত করা হয়। এই সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে বলা হয় যে, ভবিষ্যতে কোনো নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হবে না।
— ১৫তম সংশোধনীতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে নির্বাচন পরিচালনা করবে এবং কোনো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজন হবে না।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) ১২ তম সংশোধনী: এই সংশোধনীটি ছিল রাষ্ট্রপতি পদ্ধতির সাথে সম্পর্কিত, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
✗ খ) ১৩ তম সংশোধনী: এই সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রথমবারের মতো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, কিন্তু তা রদ করা হয়নি।
✗ গ) ১৪ তম সংশোধনী: এই সংশোধনীটি ছিল রাজনৈতিক দল ও নির্বাচন সম্পর্কিত কিছু বিষয় নিয়ে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা রদ করার সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
উৎস:
— বাংলাদেশের সংবিধান (১৯৭২ সালের মূল সংবিধান এবং পরবর্তী সংশোধনীসমূহ)
— বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট
— বিভিন্ন সরকারি প্রকাশনা ও আইনজীবীদের মতামত