ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) ২৭ মার্চ ১৯৯৬
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সম্পর্কে পরীক্ষা-প্রাসঙ্গিক ভূমিকা:
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিরোধ দূর করে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য গঠিত হয়। ১৯৯৬ সালে এই ব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক সংকট মোকাবেলায় ভূমিকা রাখে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— **তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা**: বাংলাদেশের সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করা হয়। এটি নির্বাচনের পূর্ববর্তী সময়ে গঠিত হয় এবং নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করে।
— **প্রথম প্রয়োগ**: ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রথম প্রয়োগ করা হয়। এই নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করে, কিন্তু বিরোধী দলগুলোর আন্দোলনের মুখে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনার দাবি ওঠে।
— **ত্রয়োদশ সংশোধনী**: ১৯৯৬ সালের ২৭ মার্চ জাতীয় সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ত্রয়োদশ সংশোধনী পাস করা হয়। এই সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ৫৮(গ) অনুচ্ছেদ যুক্ত করা হয়।
— **কার্যক্রম**: তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান বিচারপতি কে এম হাসানকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ ক) ২১ জানুয়ারি ১৯৯১: এই তারিখটি বাংলাদেশের উপজেলা নির্বাচন ব্যবস্থা পুনর্বিন্যাসের সাথে সম্পর্কিত, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার সাথে নয়।
✗ খ) ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৯২: এই তারিখটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হলেও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রণয়নের সাথে সম্পর্কিত নয়।
✗ ঘ) ২৮ এপ্রিল ১৯৯৭: এই তারিখটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হলেও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রণয়নের সাথে সম্পর্কিত নয়। এটি মূলত সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনী পাসের তারিখ।
উৎস:
— বাংলাদেশ সরকার. (১৯৯৬). *সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী আইন, ১৯৯৬*.
— ইসলাম, সিরাজুল. (২০০৪). *বাংলাদেশের ইতিহাস: স্বাধীনতা উত্তরকাল (১৯৭১-২০০০)*।
— সিদ্দিক, এম আব্দুর রহমান. (২০১০). *বাংলাদেশের রাজনীতি ও সরকার ব্যবস্থা*.