ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) অক্ষয়কুমার দত্ত
‘তত্ত্ববোধিনী’ পত্রিকা ছিল বাংলা সাহিত্য ও সমাজ সংস্কারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনা। এটি ব্রাহ্ম সমাজের মুখপত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিকাশে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে।
**‘তত্ত্ববোধিনী’ পত্রিকা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— ‘তত্ত্ববোধিনী’ পত্রিকা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৪৩ সালে। এটি ব্রাহ্ম সমাজের প্রতিষ্ঠাতা রাজা রামমোহন রায়ের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রকাশিত হতো।
— এই পত্রিকার প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার প্রচার করা, বিশেষ করে ব্রাহ্ম ধর্মের মূলনীতি প্রচার করা।
— পত্রিকাটি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি বাংলা গদ্যের মান উন্নয়নে সহায়তা করেছিল।
— ‘তত্ত্ববোধিনী’ পত্রিকার মাধ্যমে বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান, দর্শন, ধর্ম ও সমাজবিষয়ক প্রবন্ধ প্রকাশিত হতো, যা তৎকালীন শিক্ষিত সমাজকে প্রভাবিত করেছিল।
— পত্রিকাটির প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন অক্ষয়কুমার দত্ত, যিনি একজন বিশিষ্ট লেখক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ সংস্কারক ছিলেন।
— অক্ষয়কুমার দত্ত ছাড়াও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সহ অন্যান্য ব্রাহ্ম সমাজের নেতৃবৃন্দ এই পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ খ) প্যারীচাঁদ মিত্র: তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট লেখক ও সমাজ সংস্কারক, কিন্তু ‘তত্ত্ববোধিনী’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন না। তিনি ‘মাসিক পত্রিকা’ নামে একটি পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।
✗ গ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর: তিনি ছিলেন একজন মহান শিক্ষাবিদ ও সমাজ সংস্কারক, কিন্তু তিনি ‘তত্ত্ববোধিনী’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন না। তিনি বিভিন্ন সাময়িক পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন, তবে এই পত্রিকার সম্পাদনা করেননি।
✗ ঘ) সৈয়দ মুজতবা আলী: তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট লেখক ও শিক্ষাবিদ, কিন্তু তিনি ‘তত্ত্ববোধিনী’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন না। তিনি বিংশ শতাব্দীর একজন উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন।
উৎস:
— বাংলাপিডিয়া (বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি)
— বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ)
— ব্রাহ্ম সমাজ ও বাংলা সাহিত্য (ড. দেবেশ কুমার আচার্য)