ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) অনন্বয়ী অব্যয়
‘তুমি তো ভারি সুন্দর ছবি আঁক।’ — এই বাক্যে ‘তো’ পদটি অনন্বয়ী অব্যয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
**অনন্বয়ী অব্যয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— অনন্বয়ী অব্যয় হলো এমন অব্যয় পদ যা বাক্যের মধ্যে অন্য কোনো পদ বা পদসমষ্টির সঙ্গে সম্পর্ক না রেখে স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয়।
— এ ধরনের অব্যয় সাধারণত বাক্যের শুরুতে বা শেষে ব্যবহৃত হয় এবং এর অর্থ প্রকাশের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
— অনন্বয়ী অব্যয়ের উদাহরণ: তো, হাঁ, ওরে, আরে, ইত্যাদি।
— অনন্বয়ী অব্যয় বাক্যের অর্থগত পরিবর্তন ঘটাতে পারে, যেমন: জোর দেওয়া, বিস্ময় প্রকাশ করা, সম্মতি প্রকাশ করা ইত্যাদি।
— বাংলা ব্যাকরণে অনন্বয়ী অব্যয়কে স্বাধীন অব্যয় হিসেবেও অভিহিত করা হয়।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ খ) অনুকার অব্যয়: অনুকার অব্যয় হলো এমন অব্যয় যা কোনো শব্দের অনুকরণে ব্যবহৃত হয়, যেমন: ঘেউ ঘেউ, কুহু কুহু ইত্যাদি। এই বাক্যে ‘তো’ অনুকার অব্যয় নয়।
✗ গ) পদান্বয়ী অব্যয়: পদান্বয়ী অব্যয় হলো এমন অব্যয় যা দুই বা ততোধিক পদ বা বাক্যের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে, যেমন: এবং, কিন্তু, অথবা ইত্যাদি। এই বাক্যে ‘তো’ পদান্বয়ী অব্যয় নয়।
✗ ঘ) অনুসর্গ অব্যয়: অনুসর্গ অব্যয় হলো এমন অব্যয় যা বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের পরে বসে কারক বা সম্পর্ক নির্দেশ করে, যেমন: দ্বারা, জন্য, কাছে ইত্যাদি। এই বাক্যে ‘তো’ অনুসর্গ অব্যয় নয়।
উৎস:
— বাংলা একাডেমি ব্যবহারিক বাংলা অভিধান
— ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ রচিত ‘বাংলা ব্যাকরণ’
— বিভিন্ন সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নব্যাংক