ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
ট্যারিফ কমিশন হলো বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও শুল্ক নীতির সাথে সম্পর্কিত। এটি মূলত আমদানি ও রপ্তানি শুল্ক নির্ধারণ এবং বাণিজ্যিক নীতিমালা প্রণয়নে সরকারকে সহায়তা করে থাকে।
**ট্যারিফ কমিশন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— প্রতিষ্ঠাকাল: ট্যারিফ কমিশন বাংলাদেশ সরকারের একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ১৯৯২ সালে গঠিত হয়।
— প্রধান কাজ: দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতির উপর গবেষণা ও সুপারিশ প্রদান করা। বিশেষ করে শুল্ক হার নির্ধারণ, বাণিজ্য চুক্তি পর্যালোচনা, এবং প্রতিযোগিতামূলক বাণিজ্য নীতির উপর কাজ করা।
— আইনি ভিত্তি: ট্যারিফ কমিশন অধ্যাদেশ, ১৯৯২ অনুসারে পরিচালিত হয়। এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে কমিশনের ক্ষমতা ও কার্যাবলি নির্ধারিত হয়েছে।
— সদস্য: কমিশনে একজন চেয়ারম্যান এবং কয়েকজন সদস্য থাকেন, যারা সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হন।
— রিপোর্টিং: কমিশন তার প্রতিবেদন সরাসরি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেয় এবং সরকার সেই অনুযায়ী নীতিমালা প্রণয়ন করে।
— আন্তর্জাতিক সম্পর্ক: বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (WTO) এর সাথে সমন্বয় রেখে কাজ করে থাকে। বিশেষ করে, বিভিন্ন দেশের সাথে বাণিজ্য চুক্তি ও শুল্ক হার নির্ধারণে ভূমিকা পালন করে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ খ) অর্থ মন্ত্রণালয়: অর্থ মন্ত্রণালয় মূলত জাতীয় অর্থনীতি, রাজস্ব আদায়, এবং সরকারি ব্যয়ের দায়িত্ব পালন করে। ট্যারিফ কমিশনের সাথে এর সরাসরি সম্পর্ক নেই।
✗ গ) পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়: পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও উন্নয়ন প্রকল্পের সাথে সম্পর্কিত। ট্যারিফ কমিশনের কাজের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
✗ ঘ) শিল্প মন্ত্রণালয়: শিল্প মন্ত্রণালয় দেশের শিল্প খাতের উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করে। ট্যারিফ কমিশনের কাজ মূলত বাণিজ্য নীতির সাথে সম্পর্কিত, শিল্প নীতির সাথে নয়।
উৎস:
— বাংলাদেশ সরকারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (www.cabinet.gov.bd)
— ট্যারিফ কমিশন অধ্যাদেশ, ১৯৯২
— বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (www.mincommerce.gov.bd)