ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) প্রায় ১২ ঘন্টা
জোয়ার-ভাটা সম্পর্কিত ভূমিকা:
পৃথিবীর মহাসাগরগুলিতে নিয়মিতভাবে সংঘটিত জোয়ার-ভাটা মূলত চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষীয় বলের প্রভাবের কারণে ঘটে। উপকূলবর্তী এলাকায় জোয়ারের সময়কাল ও ব্যাবধান সম্পর্কে জানা সরকারি চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
**জোয়ার-ভাটা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— জোয়ার-ভাটা প্রধানত চাঁদের মহাকর্ষীয় আকর্ষণের ফলে ঘটে। চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে ঘুরতে থাকায় এর মহাকর্ষীয় বলের কারণে পৃথিবীর যে অংশ চাঁদের দিকে মুখ করে থাকে, সেখানে জোয়ার হয়।
— পৃথিবী নিজ অক্ষের উপর ঘুরতে থাকায় (প্রতি ২৪ ঘণ্টায় একবার) একটি নির্দিষ্ট স্থানে প্রতিদিন দুবার জোয়ার ও দুবার ভাটা দেখা যায়।
— দুটি পরপর জোয়ারের মধ্যে সময়ের ব্যবধান প্রায় **১২ ঘণ্টা**। কারণ, পৃথিবী ২৪ ঘণ্টায় একবার ঘুরে আসে, তাই একই স্থানে দুবার চাঁদের দিকে মুখ করে থাকে।
— সূর্যের মহাকর্ষীয় বলও জোয়ার-ভাটায় প্রভাব ফেলে, তবে চাঁদের তুলনায় এর প্রভাব কম। সূর্য ও চাঁদ যখন একই সরলরেখায় থাকে (পূর্ণিমা ও অমাবস্যায়), তখন জোয়ারের উচ্চতা বৃদ্ধি পায়, যাকে **ভরা কোটাল** বলে।
— জোয়ারের সময়কাল স্থানভেদে সামান্য পরিবর্তিত হতে পারে, তবে সাধারণত দুটি জোয়ারের মধ্যে ব্যবধান থাকে **১২ ঘণ্টা ২৫ মিনিট** পর্যন্ত।
— জোয়ারের সময়কাল নির্ভর করে চাঁদের অবস্থান, স্থানীয় ভূগোল, এবং মহাসাগরের গভীরতার উপর।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ খ) প্রায় ২৪ ঘন্টা: এটি ভুল কারণ পৃথিবী ২৪ ঘণ্টায় একবার ঘুরে আসে, ফলে একই স্থানে দুবার জোয়ার হয়। তাই দুটি জোয়ারের মধ্যে ব্যবধান ১২ ঘণ্টা।
✗ গ) প্রায় ৬ ঘন্টা: এটি ভুল কারণ জোয়ারের সময়কাল সাধারণত ১২ ঘণ্টা হয়, ৬ ঘণ্টা নয়। ৬ ঘণ্টা হলে তা অর্ধেক সময় হতো, যা বৈজ্ঞানিকভাবে সমর্থিত নয়।
✗ ঘ) চাদের তিথি অনুসার ভিন্ন: এটি আংশিক সত্য হতে পারে, কারণ চাঁদের তিথি অনুসারে জোয়ারের উচ্চতা পরিবর্তিত হয়, কিন্তু দুটি জোয়ারের মধ্যে সময়ের ব্যবধান সর্বদাই প্রায় ১২ ঘণ্টা থাকে।
উৎস:
- ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিষয়ক বই (৯ম-১০ম শ্রেণি)
- সাধারণ জ্ঞান বিষয়ক বিভিন্ন সরকারি চাকরির প্রশ্নব্যাংক
- জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB) কর্তৃক প্রকাশিত ভূগোল বিষয়ক পাঠ্যপুস্তক