ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) অতি
উপসর্গ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা:
বাংলা ভাষায় শব্দ গঠনে উপসর্গ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উপসর্গ হলো এমন কিছু অব্যয় বা শব্দাংশ যা শব্দের পূর্বে যুক্ত হয়ে নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি করে। উপসর্গ নিজে স্বাধীনভাবে অর্থ প্রকাশ করে না, তবে মূল শব্দের অর্থকে পরিবর্তন বা পরিবর্ধিত করে।
**উপসর্গ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— উপসর্গ দুই প্রকার: সংস্কৃত উপসর্গ (যেমন: অতি, প্র, পরা, অপ) ও বাংলা উপসর্গ (যেমন: অ, অনা, বি, সু, কু)।
— উপসর্গ শব্দের পূর্বে যুক্ত হয় এবং নতুন শব্দ গঠন করে। যেমন: "অতি" + "উৎকৃষ্ট" = "অত্যুৎকৃষ্ট"।
— উপসর্গ মূল শব্দের অর্থকে পরিবর্তন করে। যেমন: "ভাল" শব্দের পূর্বে "অতি" যুক্ত হয়ে "অতিভাল" শব্দটি গঠিত হয়, যার অর্থ অত্যন্ত ভাল।
— উপসর্গ মূল শব্দের অংশ নয়, বরং স্বাধীনভাবে অর্থ প্রকাশ করে না।
— উপসর্গের নিজস্ব কোনো অর্থ নেই, তবে এটি মূল শব্দের অর্থকে প্রভাবিত করে।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ খ) থেকে: "থেকে" হলো অনুসর্গ। অনুসর্গ হলো এমন কিছু শব্দাংশ যা শব্দের পরে যুক্ত হয়ে কারক বিভক্তির কাজ করে। যেমন: "বাড়ি থেকে আসছি"।
✗ গ) চেয়ে: "চেয়ে" হলো অনুসর্গ। এটি তুলনা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। যেমন: "তোমার চেয়ে আমি বড়"।
✗ ঘ) দ্বারা: "দ্বারা" হলো অনুসর্গ। এটি কর্তৃকারক বা কর্মকারক বিভক্তির কাজ করে। যেমন: "তিনি দ্বারা কাজটি সম্পন্ন হয়েছে"।
উৎস:
— বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান
— বাংলা ব্যাকরণ ও রচনা, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
— মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড