ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মিত্রশক্তির নেতারা একাধিক সম্মেলনের আয়োজন করেন। এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ছিল **Yalta Conference** (ফেব্রুয়ারি ৪–১১, ১৯৪৫)। এই সম্মেলনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতারা অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধ পরবর্তী বিশ্ব ব্যবস্থা গঠন এবং জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার ভিত্তি প্রস্তুত করা।
**Yalta Conference সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **সম্মেলনের স্থান ও সময়**: ক্রিমিয়ার Yalta শহরের Livadia Palace-এ অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট **ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট**, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী **উইনস্টন চার্চিল** এবং সোভিয়েত নেতা **জোসেফ স্ট্যালিন** অংশগ্রহণ করেন।
— **সম্মেলনের প্রধান লক্ষ্য**:
— যুদ্ধ পরবর্তী ইউরোপের পুনর্গঠন ও শান্তি প্রতিষ্ঠা।
— জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা ও গঠনতন্ত্র প্রণয়নের ভিত্তি স্থাপন।
— জার্মানির পরাজয় ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যবস্থা।
— পূর্ব ইউরোপে সোভিয়েত প্রভাব প্রতিষ্ঠা ও যুদ্ধকালীন চুক্তির শর্তাবলি নির্ধারণ।
— **জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠায় অবদান**:
— সম্মেলনে জাতিসংঘের গঠনতন্ত্রের প্রাথমিক খসড়া প্রণয়ন করা হয়।
— জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য দেশ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সোভিয়েত ইউনিয়ন, ফ্রান্স ও চীনকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
— জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়, যা পরবর্তীতে **San Francisco Conference (এপ্রিল–জুন ১৯৪৫)**-এ চূড়ান্ত করা হয়।
— **অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত**:
— জার্মানির বিভাজন ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য **Nuremberg Trial** আয়োজনের সিদ্ধান্ত।
— পোল্যান্ডের সরকার গঠন ও পূর্ব ইউরোপে সোভিয়েত প্রভাব বিস্তারের বিষয়ে সমঝোতা।
— জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার পর জাতিসংঘের সদর দপ্তর স্থাপনের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরকে নির্বাচিত করা হয়।
---
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ **ক) বিশ্বযুদ্ধের কারণ নির্ণয়**: Yalta Conference-এর প্রধান লক্ষ্য ছিল যুদ্ধ পরবর্তী বিশ্ব ব্যবস্থা গঠন, যুদ্ধের কারণ নির্ণয় নয়। যুদ্ধের কারণ নির্ণয় করা হয়েছিল পরবর্তীকালে **Nuremberg Trial** এবং অন্যান্য যুদ্ধাপরাধ বিচারের মাধ্যমে।
✗ **খ) জিব্রালটার প্রণালীর সুরক্ষা**: জিব্রালটার প্রণালীর সুরক্ষা ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার সামরিক কৌশলগত বিষয়, যা Yalta Conference-এর আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
✗ **ঘ) যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদান**: যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়টি পরবর্তীকালে **প্যারিস শান্তি সম্মেলন (১৯৪৬)** এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক চুক্তির মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছিল, Yalta Conference-এর মূল আলোচ্য বিষয় ছিল না।
---
উৎস:
1. **Kennedy, P. (1