ব্যাখ্যা
◉
৬ নভেম্বর ১৯৮৪ তারিখে বাংলাদেশ নারীর বিরুদ্ধে সকল প্রকার বৈষম্য (
CEDAW)
দূরীকরণ সনদে সম্মতি জানায়।
CEDAW:
– CEDAW-এর পূর্ণরূপ: Convention on the Elimination of All Forms of Discrimination Against Women বা নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য প্রতিরোধ কনভেনশন।
– গৃহীত হয়: ১৮ ডিসেম্বর, ১৯৭৯ সালে।
– সনদ স্বাক্ষর শুরু হয়: ১ মার্চ, ১৯৮০।
– কার্যকর হয়: ৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৮১।
– বর্তমান চেয়ারপারসন: আনা পেলেজ নারভেজ।
– এই সনদে মোট ৩০টি অনুচ্ছেদ আছে। এই অনুচ্ছেদগুলোর মধ্যে ৩-১৬ পর্যন্ত মোট ১৪টি নারীর অধিকার সংক্রান্ত এবং বাকীগুলো এব কর্মপন্থা ও দায়িত্ব সংক্রান্ত।
⇒ CEDAW সনদে মোট ৩০টি অনুচ্ছেদ আছে। অনুচ্ছেদ ৩ ভাগে বিভক্ত। যথা:
– প্রথম ভাগ (১-১৬): নারী পুরুষের সমতা সর্ম্পকিত,
– দ্বিতীয় ভাগ (১৭-২২): এর কর্মপন্থা ও দায়িত্ব বিষয়ক,
– তৃতীয় ভাগ (২৩-৩০): প্রশাসনিক বিষয়।
⇒ CEDAW কমিটিতে সারা বিশ্ব থেকে নারী অধিকার সংক্রান্ত ২৩ জন বিশেষজ্ঞ রয়েছে। কমিটি সদস্যগণ ৪ বছরের জন্য নির্বাচিত হন।
– এই কনভেনশন গৃহ নির্যাতন, প্রজনন, আইনগত, রাজনৈতিক অধিকারের ক্ষেত্রে নারীদের সমমর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে থাকে।
– কনভেনশনের শর্তানুযায়ী রাষ্ট্রপক্ষসমূহের প্রতি নারীর মৌলিক মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা; নারী পাচার ও পতিতাবৃত্তিতে নারীর শোষণ রোধ নিশ্চিত করা; রাজনৈতিক ও লোকজীবনে নারীর প্রতি বৈষম্যের অবসান; জাতীয়তা অর্জন, পরিবর্তন বা বহাল রাখার সমান অধিকার নিশ্চিত করা; শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য এবং অর্থনৈতিক ও সমাজ জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রে বৈষম্যের অবসান ঘটানোর জন্যে ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
– অন্যান্য ধারায় গ্রামীণ নারীর সমস্যা, আইনের দৃষ্টিতে সমতা এবং বিবাহ ও পারিবারিক জীবনে নারীর প্রতি বৈষম্যের অবসান সংক্রান্ত বিষয়গুলো রয়েছে।
– কনভেনশনে নারীর নিজ নিজ দেশে রাজনৈতিক ও লোকজীবনে অংশগ্রহণ এবং সরকারের সকল পর্যায়ে সকল কাজ করার অধিকারও নিশ্চিত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য,
– বাংলাদেশ CEDAW অনুমোদন করে ৬ নভেম্বর, ১৯৮৪ সালে।
– বাংলাদেশ সাক্ষরের সময় সনদের অনুচ্ছেদ ২ ও ১৩ (ক) ও অনুঃ ১৬ (১) (গ) (চ) সংরক্ষণ রেখেছিল। পরবর্তীতে ২ এবং ১৬ (১) (গ) সংরক্ষিত রেখে বাকী অনুচ্ছেদগুলো থেকে সংরক্ষণ তুলে নেয়া হয়।
– CEDAW সনদের ২ নম্বর ধারার মূল নির্যাস হচ্ছে, পুরুষ ও নারীর মধ্যে সমতার নীতি রাষ্ট্রের সংবিধানে অথবা অন্য কোনো আইনে এরই মধ্যে অন্তর্ভুক্ত না হয়ে থাকলে তার অন্তর্ভুক্তি এবং আইনের মাধ্যমে এই নীতির বাস্তবায়ন। প্রচলিত যেসব আইন, বিধি, প্রথা ও অভ্যাস নারীর প্রতি বৈষম্য সৃষ্টি করে, তা বাতিল বা পরিবর্তন করা এবং প্রয়োজনে নতুন আইন প্রণয়ন এ ক্ষেত্রে দরকার। অর্থাৎ সমতার আইনগত ভিত্তি প্রতিষ্ঠা এবং আদালত ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তা কার্যকর করা।
– CEDAW সনদের ১৬(১)-এর (গ) ধারায় বলা হয়েছে বিবাহ, বিবাহে পছন্দ-অপছন্দ, বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সম-অধিকার ও দায়দায়িত্বের কথা।
এছাড়াও,
– ৩ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক CEDAW দিবস।
উৎস: i) UN ওয়েবসাইট। ii) CEDAW South Asia ওয়েবসাইট।